আশাপুরের বেগুন। নিজস্ব চিত্র
আম ও সিল্কের পরে এ বার মালদহের আশাপুরের বেগুন জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন (জিআই)-এর তকমা পেল। মূলত জেলার চাঁচল ১ ও ২ ব্লকে এই বেগুন চাষ হয়। এই প্রাপ্তিতে খুশির হাওয়া জেলার কৃষক মহলে।
মালদহের ফজলি, হিমসাগর ও লক্ষ্মণভোগ আম কয়েক বছর আগে ‘জিআই’ তকমা পেয়েছে। গত বছর নিস্তারি সিল্কও জিআই তকমা পায়। ওই চারটি পণ্যের বাইরেও মালদহের রসকদম্ব, কানসাট মিষ্টি, নবাবগঞ্জের বেগুন, মাসকলাই ডাল, সোনা মুগ ডাল, আমসত্ত্ব, আশ্বিনা আম এবং পোখরাজ আলু— এই আটটি পণ্যের জিআই তকমা পেতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে প্রশাসনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে। মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও একই আবেদন জানিয়েছে।
এই আবহেই এ বার মালদহের আশাপুরের বেগুন জিআইয়ের স্বীকৃতি পেল। চেন্নাইয়ের জিআই সংস্থার রেজিস্ট্রার ‘আশাপুর ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস গ্রোয়ার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-কে এর স্বত্ত্বাধিকার দিয়েছে। আর এই জিআই পেতে সহযোগিতা করেছে জেলা উদ্যানপালন দফতর এবং কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস। জেলা উদ্যানপালন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আশাপুরের বেগুন চাঁচল ১ ব্লকের খরবা, মতিহারপুর, ভগবানপুর ও মহানন্দপুর পঞ্চায়েত এলাকা এবং চাঁচল ২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া ও মালতীপুর পঞ্চায়েত এলাকা মিলে মোট ৫০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয় এবং ফলন প্রায় ২৬ হাজার টন। ২০২১ সালের শেষের দিকে জেলা উদ্যানপালন দফতর ও জেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে এই আশাপুরের বেগুনের জিআই তকমা পেতে আবেদন করেছিল সংশ্লিষ্ট দফতরে। জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক সামন্ত লায়েক বলেন, ‘‘আশাপুর বেগুনের জিআই স্বীকৃতির ফলে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আশাপুর বেগুনের পরিচিতি ও ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বৃদ্ধি পাবে।’’
মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর বলেন, ‘‘আশাপুর বেগুনের জিআই স্বীকৃতি সমগ্র জেলার জন্য গর্বের বিষয়। এই স্বীকৃতির ফলে চাঁচল ১ ব্লক এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হবেন।’’ আশাপুর বেগুনের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সুসংগঠিত রূপরেখা তৈরিতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন। জিআই-এর ব্যবহার, প্যাকেজিং এবং গুণমান বজায় রাখার বিষয়ে কৃষক ও উৎপাদক গোষ্ঠীগুলিকে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে