দুর্ঘটনা: নাগরাকাটায় উল্টে যায় বাসটি। ছবি: দীপঙ্কর ঘটক
শিলং থেকে শিলিগুড়ি আসার পথে সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ নাগরাকাটায় বাস দুর্ঘটনায় এক জন মারা গিয়েছেন। রঞ্জিত দাস (৩৫) নামে ওই ব্যক্তি ছিলেন বাসটির খালাসি। বাসটির ত্রিশ যাত্রী জখম হয়েছেন। আহতদের ১৭ জনকে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ চালক রঞ্জিত চৌধুরী গুরুতর জখম হয়েছেন।
শিলং থেকে বাসটি ছাড়ে বিকেল ৩টে নাগাদ। রাত ৯টা নাগাদ বাসটি রাস্তার ধারে একটি হোটেলে থামে। সেখানে খাওয়াদাওয়া করেন যাত্রীরা। তার পর থেকেই গাড়ি বেপরোয়া চলছে বলে যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ। যাত্রী চন্দ্রমণি কুমারের দাবি, তারপর থেকেই চালক স্বাভাবিক ছিলেন না। চন্দ্রমণি বলেন, ‘‘গাড়িটি বেপরোয়া চলছিল। চালক মদ্যপান করেছিলেন।’’ চন্দ্রমণির বাঁ পা হাঁটুর নীচে থেকে বাদ দিতে হবে।
ভোর রাতে নাগরাকাটার গ্রাস মোড় চা বাগানের কাছে জাতীয় সড়কে বাসটি একটি গাছকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়৷ বাসে থাকা বেশিরভাগ যাত্রীই কম বেশ জখম হন৷ কিন্তু চোট বেশি থাকায় তাদের মধ্যে ত্রিশ জনকে শুল্কাপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে সতেরো জনকে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়৷ মৃত্যু হয় বাসের খালাসি রঞ্জিত দাসের৷ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাসটি খুবই জোর গতিতে চলছিল৷ দুর্ঘটনার পরে আহত যাত্রীদের কারো হাত–পা থেঁতলেও যায়৷ জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসার প্রয়োজনে জখমদের কয়েক জনের সিটি স্ক্যান করানোর কথা জানান চিকিৎসক। অথচ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিটি স্ক্যান যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। শান্তি ছেত্রী, সুমন থাপা, চন্দ্র বাহাদুর থাপাদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে শিলিগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সিটি স্ক্যান করিয়ে আনা হয়। গুরুতর জখম রোগীদের এ ভাবে নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাদের কয়েকজনকে মেঝেতে শয্যায় রাখা নিয়েও। হাসপাতাল সুপার মৈত্রেয়ী কর বলেন, ‘‘কয়েকজন এতটাই জখম যে তাঁদের শয্যায় ওঠাতেও সমস্যা হচ্ছে। সে জন্যই মেঝেতে রাখা হয়েছে। সিটি স্ক্যান অকেজো বলে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে নতুন যন্ত্র কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা অনুমোদন হয়েছে। তা না কেনা পর্যন্ত কিছু করতে পারছি না।’’
ওই বাসের যাত্রী যমুনা থাপা জানান, এখনও মনে ভেসে আসছে অন্ধকারের মধ্যে আর্তনাদ। তাঁর স্বামী তাঁকে বাসের জানলা দিয়ে বার করে। তিনি বলেন, ‘‘সামনে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের চোট সবচেয়ে বেশি।’’