Coronavirus

আঁকার খাতায় বাবার ছবি, গাড়িতে বাড়ি ফিরল খুদে

ওই খুদের সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন মা। মেয়ে দেখছে মোবাইলে মা-বাবার কথা হচ্ছে, কিন্তু বাবা-র দেখা নেই!

Advertisement

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২০ ০৪:১৬
Share:

প্রতীকী ছবি।

‘বাবা কখন নিতে আসবে, মা?’ এগারো বছরের মেয়ে থেকে থেকেই প্রশ্ন করে যাচ্ছে মা-কে। বাবা নিতে এলে বাড়ি ফিরতে পারবে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী। কোভিড হাসপাতালের হলঘরে মেয়ের আর মন টিকছে না। হাসপাতালে আসার সময়ে মনে করে ড্রইং খাতা এনেছিল, বারণ শোনেনি। সেই খাতায় কখনও বাবার ছবি আঁকার চেষ্টা করছে, কখনও দোচালার ছবি এঁকে লিখছে বাড়ি। সেই আঁকা নিয়ে দেখাতে যাচ্ছে অন্য রোগীদের, জিজ্ঞেস করছে, ‘‘আঁকা কেমন হলো?’’ গত মঙ্গলবার দুপুরেই মেয়েকে কোভিড হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়েছেন চিকিৎসক। তারপরে দু’দিন বাবা না আসায় আর তর সইছে না তার। কিন্তু বাবাও যে বিস্তর সমস্যায় পড়েছেন।

Advertisement

ওই খুদের সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন মা। মেয়ে দেখছে মোবাইলে মা-বাবার কথা হচ্ছে, কিন্তু বাবা-র দেখা নেই! মেয়ের মায়ের কথায়, “ওর বাবা আসবে কি করে! আমাদের বাড়ি তো কনটেনমেন্ট জ়োন। মেয়ের করোনা ধরা পড়ায় বাড়ি কনটেনমেন্ট হয়েছে। এখন বাড়ি থেকে ওর বাবাকে বের হতে দিচ্ছে না। তাই আমাকে-মেয়েকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে।” ঘটনাটি জেনে জেলা স্বাস্থ্য দফতর উদ্যোগী হয়ে গাড়ির ব্যবস্থা করে মা-মেয়েকে মঙ্গলবার রাতেই বাড়ি পাঠায়।

জলপাইগুড়ি ফুলবাড়ির বাসিন্দা ওই পরিবার। ৪ জুন থেকে জলপাইগুড়ির কোভিড হাসপাতালে রয়েছে মেয়ে। শক্তিগড়ের একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে। তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। ছোট মেয়ে একা হাসপাতালে থাকতে পারবে না বলে মা সঙ্গে এসেছে। কোভিড হাসপাতালে এসে মায়ের শরীরেও করোনা বাসা বাঁধতে পারত, এমন আশঙ্কা ছিল। যদিও হাসপাতালে থাকার পরে তিন বার মায়ের পরীক্ষা হলেও, কোনওবারই সংক্রমণ মেলেনি। মেয়েও দিব্বি হেসেখেলেই ছিল। হাসপাতালে বসে ছবি এঁকেছে, কখনও মায়ের চাপে নামতা মুখস্থও করেছে। কোভিড হাসপাতালের কর্মীরা জানাচ্ছেন, বাচ্চা মেয়েটি সকাল-বিকেল সুর করে আবৃত্তি করতো, গান গাইত। হাসপাতালের এক কর্মীর কথায়, “প্রাণবন্ত মেয়েটার সঙ্গে কথা বলে অনেক রোগী মন ভাল করতেন।” মেয়েটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ায় সকলেই খুশি, তবে মন ভারও।

Advertisement

মেয়ের বাবা বলেন, ‘‘কী করব বলুন। আমাদের বাড়ির আশেপাশে ব্যারিকেড করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ১৪ দিনের আগে খুলবে না। বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। ছোট্ট মেয়েটার জন্য আমারও মন কাঁদছে।” শেষ পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি ফিরছে শুনে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement