টাকা না-থাকায় টিকিট কিনতে না পারায় সাফ মহিলা ফুটবলের খেলা দেখতে পারেননি শিলিগুড়ি ছয় জন মহিলা ফুটবলার।
শনিবার কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ভারত-বংলাদেশ ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন সুস্মিতা লেপচা, শিবানী শর্মাদের মতো ওই মহিলা ফুটবলাররা। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের বিধানসভা এলাকা সেবক রো়়ডের দুই মাইলের রয়্যাল ফুটবল ক্লাবে খেলেন তাঁরা। তাঁদের অনেকে রাজ্য স্তরে, জতীয় স্তরে ফুটবলও খেলছেন। দুঃস্থ পরিবারের ওই মহিলা ফুটবলাররা টিকিট কাটতে না পেরে স্টেডিয়ামের গেটে থাকা লোকদের নানা ভাবে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু তাতে বরফ গলেনি। নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরেও টিকিট না থাকায় তাদের খেলা দেখতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
মাঠে যখন ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ হচ্ছে তখন স্টেডিয়ামের বাইরে এমনই ঘটনা শুনে হতবাক অনেকেই।
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে সাফ মহিলা ফুটবল প্রতিযোগিতা উত্তরবঙ্গে মহিলাদের ফুটবলে উৎসাহী করবে বলে বড় গলা করে জানিয়েছিলেন ফেডারেশনের কর্মকর্তা থেকে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের সদস্যদের অনেকেই। অথচ এই ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শহরে সাফ ফুটবলের আয়োজন হলেও ওই মহিলা ফুটবলারদের ব্রাত্য থাকতে হওয়ায় তাঁরা আক্ষেপ করেছেন।
খবর পৌঁছেছে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের কাছেও। বিষয়টি জানার পরেই সম্মানের সঙ্গে ওই মহিলা ফুটবলারদের খেলা দেখার সমস্ত ব্যবস্থা করতে তিনি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের সচিবকে জানিয়েছেন।
শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের সচিব অরূপরতন ঘোষ বলেন, ‘‘ওই মহিলাদের খেলা দেখার টিকিটের ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করব। তাঁরা প্রথমে আমাদের কাছে এলেই সমস্যা হত না।’’ প্রশ্ন উঠেছে শিলিগুড়ি দোমাইলে, বাগডোগরা, দাগাপুর, ডুয়ার্সের বানারহাটে মহিলা ফুটবল জনপ্রিয়।
স্থানীয় মহিলা ফুটবলাররা-সহ কালিম্পং, দার্জিলিং থেকে সুস্মিতা, শিবানী, নিকিতা রানা, প্রীতি ভাণ্ডার, পূণমের মতো অন্তত ৩০ জন মেয়ে ফুটবল খেলেন দোমাইলের ওই ক্লাবে। তাঁদের কোচ নকুল রায় বলেন, ‘‘মহিলা ফুটবলে এত বড় খেলার আয়োজন। শুনেছিলাম কর্মকর্তারাও মহিলা ফুটবলের প্রসার চান। আমাদের ক্লাবের ফুটবলাররা খেলা দেখার বিশেষ সুযোগ পাবে বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের ডাকা হয়নি। গরিব পরিবারের মেয়েদের অনেকেরই টিকিট কেটে খেলা দেখার সামর্থ্য নেই। ম্যাচ দেখতে গিয়ে টিকিট না পেয়ে কয়েকজন ফিরে এসেছেন জেনে তাই খারাপই লাগছে।’’
সুস্মিতা জানান, রিঙ্কু রাই, আফসনা বম্বজন, ভাইলা ভুটিয়া, শিবানী শর্মা, সুশন শেরশা এবং তিনি খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। নিজেদের পরিচয় দেন তবু খেলা দেখতে পাননি।