ফাইল চিত্র।
গোড়ার দিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে করোনা পরীক্ষা যে কম হয়েছে, তা মেনে নিল স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্র। সেই সূত্রটি জানিয়েছে, তখন দিনে ১০-৩০টির মতো পরীক্ষা হত। কয়েক সপ্তাহের পরে সংখ্যাটি দাঁড়ায় দৈনিক ১০০-১৫০টি। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ভাইরলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গন্যাস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল)। এখন সেখানো রোজ ৪০০টির মতো নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে, সেটাও পর্যাপ্ত নয়। উত্তরবঙ্গের চারটি জেলা এবং সিকিম থেকে এখানে নমুনা আসে, তাই দৈনিক দেড় হাজার পরীক্ষা হলে হিসেব ঠিক হয়, বলছে স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রটি। জেলাগুলোতে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (সারি) কেন্দ্রে সন্দেহভাজন যে রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন, তাঁদের তো বটেই, তা ছাড়াও সব জায়গাতেই সন্দেহভাজনদের পরীক্ষা সময় মতো করা দরকার। এই পরিস্থিতি সামলাতে মেডিক্যালে ‘অটোমেটেড আরএনএ এক্সট্রাকশন মেশিন’ আনা হবে বলে ঠিক হয়েছে। এখন সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
রোগ প্রতিরোধের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে বেশি সংখ্যায় পরীক্ষার জন্য র্যাপিড কিট প্রয়োজন। কেন্দ্রের ত্রুটিপূর্ণ কিটগুলি ফেরত গিয়েছে। এর পর আর তেমন কিট মেলেনি। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একাংশ জানান, ‘অটোমেটেড আরএনএ এক্সট্রাকশন মেশিন’ পেলেও গড়ে রোজ ১৫০০ পরীক্ষা হতে পারে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সমন্বয়ের জন্য কলকাতা থেকে আসেন গোপালকৃষ্ণ ঢালি। তিনি জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই ওই যন্ত্র আসার কথা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভিআরডিএল-এ। তা থাকলে র্যাপিড কিট না-পাওয়া পর্যন্ত কনটেনমেন্ট জ়োন এবং জেলাগুলিতে সার্বিক ভাবে বেশি সংখ্যায় পরীক্ষা সম্ভব হবে। তাতে রোগ সন্ধানের কাজ অনেকটাই উন্নত হবে বলে আধিকারিকদের একাংশ মনে করে। মে মাসের গোড়াতেই ওই যন্ত্র পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল স্বাস্থ্য দফতরের তরফে। তবে এখনও তা না মেলায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা বিশেষ আধিকারিক সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘ওই যন্ত্র দ্রুত আনার চেষ্টা চলছে। তবে আগের থেকে বেশি করে পরীক্ষা এখন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভাইরোলজির ল্যাবরেটরিতে করা সম্ভব হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে কনটেনমেন্ট জ়োনগুলিতে বেশি করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করার।’’
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ‘রিয়্যাল টাইম পিসিআর’ যন্ত্রে পরীক্ষা করা হয়। তাতে এক সঙ্গে সর্বাধিক ১২০টির মতো নমুনা পরীক্ষা করতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা লাগে। দুটি যন্ত্র বর্তমানে রয়েছে। তাতে ২৪ ঘণ্টায় তিন থেকে চার দফায় পরীক্ষা করতে হচ্ছে। ২৯ মার্চ চালু হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভিআরডিএল ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা ব্যবস্থা। তার আগে তিন চারটি করে নমুনা কলকাতার নাইসেডে পাঠানো হচ্ছিল। শুরুতে খুবই কম নমুনা পরীক্ষা হচ্ছিল। গত সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ৪৩০০টি টেস্ট হয়েছে। তার মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত ২৯০০টির কিছু বেশি পরীক্ষা হয়েছে। সোমবার হয়েছে ৪০০টির মতো পরীক্ষা। মালদহে আলাদা ল্যাবরেটরি চালু হয়েছে কিছু দিন আগে। তাতে কিছুটা চাপ কমলেও প্রয়োজন মতো পরীক্ষা এখনও করা সম্ভব হচ্ছে না।