জনহীন: লকডাউনে কেন বেরিয়েছেন, তার জবাব দিতে পারেননি দু’জন। তাই পুলিশের কথায় ওঠবস। বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়িতে। ছবি: দীপঙ্কর ঘটক
টানা লকডাউনের পরে চলছিল শিথিল পর্ব। কিন্তু ফের করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় রাজ্য সরকার সপ্তাহে দু’দিন পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার, প্রথম দিনে লকডাউন কেমন হল, খোঁজ নিল আনন্দবাজার।
কোচবিহার
কোচবিহার শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ ছিল। কোথাও দোকানপাট খোলা হয়নি। জেলা সদর মহকুমা এলাকার খাগড়াবাড়ি থেকে পুন্ডিবাড়ি, বানেশ্বর থেকে দেওয়ানহাট সর্বত্র ছিল সুনসান। পুন্ডিবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রবিরঞ্জন ভাদুড়ি বলেন, ‘‘এ দিনের লকডাউন সফল হয়েছে।” কোচবিহার সদর মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল, কোতোয়ালি থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায় দিনভর রাস্তায় টহল দিয়েছেন। সকাল থেকেই দিনহাটা শহর ও আশপাশের এলাকায় রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত, সাহেবগঞ্জ থানার ওসি হেমন্ত শর্মা থেকে শুরু করে পুলিশের অন্য আধিকারিকেরা সকাল থেকেই মহকুমার বিভিন্ন স্থানে কড়া নজরদারি চালান। সকাল থেকেই তুফানগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন বাজারের দোকান বন্ধ ছিল। রাস্তাঘাট সুনসান ছিল। তুফানগঞ্জ থানার আধিকারিক রাহুল তালুকদার বলেন, ‘‘লকডাউন ভাঙা ও মাস্ক না পরার কারণে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’
সকাল থেকেই মাথাভাঙার পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরনো লোকজনকে পুলিশ লাঠি হাতে তাড়া করেছে। বাইক চালক এবং গাড়ি চালকদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। বেশ কয়েকজন বাইক চালকের জরিমানা করা হয়।
একেবারে সুনসান ছিল মেখলিগঞ্জ। হলদিবাড়ি বাজারে ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানই ছিল বন্ধ। অ্যাম্বুল্যান্স ও প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কোনও গাড়ি চলাচল করেনি।
আলিপুরদুয়ার
লকডাউনেও গা-ছাড়া মনোভাব দেখানোর অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দাদের একাংশের বিরুদ্ধে। যার জেরে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে নামল পুলিশ। প্রায় সব থানা এলাকাতেই চলল ধরপাকড়। বেশ কিছু জায়গায় লাঠি নিয়ে তাড়া করে জটলা ভাঙতে হল পুলিশকে। লকডাউন ভাঙার অভিযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী শনিবারেও লকডাউন। ওইদিনও কেউ নির্দেশ অমান্য করলে একই ব্যবস্থা হবে।’’
জলপাইগুড়ি
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জলপাইগুড়িতে সক্রিয় ছিল পুলিশ। বিকেলে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিপুল সিংহের নেতৃত্বে রুটমার্চও হয়েছে। শহর থেকে মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি পুলিশের। জেলা জুড়ে লকডাউন ভাঙার অভিযোগে মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকে পুলিশ দেখে সাইকেল ফেলে কিংবা জুতো খুলে দৌড় লাগিয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, ‘‘বেশিরভাগ বাসিন্দাই কিন্তু লকডাউন মেনেছেন।’’