এভারেস্টের লক্ষ্যে রওনা দেবরাজ, সুনীতার

বেসক্যাম্প থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল গত বছর। এ বছর মরসুম শুরু হতেই এভারেস্টের দিকে রওনা দিলেন সেই দুই পর্বতারোহী। শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে নেপালের কাঁকরভিটায় পৌঁচেছেন দেবরাজ দত্ত এবং সুনীতা হাজরা। গত বছর নেপালে একটি দুর্ঘটনায় ১৬ জন শেরপার মৃত্যুর পরে সে দেশের সরকার এভারেস্টে অভিযান বন্ধ রাখে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:৫২
Share:

অভিযানে রওনার আগে দেবরাজ দত্ত এবং সুমিতা হাজরাকে সংবর্ধনা ন্যাফের। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

বেসক্যাম্প থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল গত বছর।

Advertisement

এ বছর মরসুম শুরু হতেই এভারেস্টের দিকে রওনা দিলেন সেই দুই পর্বতারোহী। শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে নেপালের কাঁকরভিটায় পৌঁচেছেন দেবরাজ দত্ত এবং সুনীতা হাজরা। গত বছর নেপালে একটি দুর্ঘটনায় ১৬ জন শেরপার মৃত্যুর পরে সে দেশের সরকার এভারেস্টে অভিযান বন্ধ রাখে। সে কারণে ফিরে আসতে হয় দেবরাজ ও সুনীতাকে। বছর ভর প্রস্তুতি নিয়ে ফের এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রওনা হয়েছেন দু’জন। এ দিন রওনা দেওয়ার আগে হিমালয়ান নেচার এন্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের (ন্যাফ) তরফে জাতীয় পতাকা এবং সংগঠনের পতাকা তুলে দেওয়া হয় দু’জনের হাতে।

এ দিনের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে গত বছর দুর্ঘটনায় শেরপাদের মৃত্যুর প্রসঙ্গের সঙ্গে আসে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ ছন্দা গায়েনের প্রসঙ্গও। গত বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে যাওয়ার আগে একই ভাবে ছন্দার হাতেও পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল ন্যাফের তরফে। ন্যাফের অফিসে সেই ছবি দেখে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন দু’জনেই।

Advertisement

ন্যাফের মুখপাত্র অনিমেষ বসুর কথায়, ‘‘ছন্দাকে হারানো আমাদের একটা বিরাট ক্ষতি। তবে রাজ্যের পর্বতারোহীরা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। গতবার মাঝপথে ফিরে আসার পরে সারা বছর জেদ বজায় রেখে এবার ফের অভিযান শুরু করেছে দেবরাজ এবং সুমিতা। ওদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আশা করছি ওদের অভিযান সফল হবে।’’

দেবরাজ এবং সুনীতা দু’জনেই কলকাতার বাসিন্দা। প্রায় ৯ বছরের বিরতির পরে ২০১২ সাল থেকে ফের অভিযান শুরু করেছেন সুনীতা। সে বছর হিমাচলের মনিরাং শৃঙ্গ জয় করেন তিনি। তিনি জানান, ২০০৩ সালে ছেলে আর্যবীরের জন্মের পরে অভিযান বন্ধ রেখেছিলেন। আর্যবীর এখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

সুনীতা বলেন, ‘‘স্বামী তো রয়েইছে, তবে ছেলের উৎসাহেই ফের অভিযান শুরু করেছি।’’ সুনীতার স্বামী সুদেববাবুর ট্রেকিং সামগ্রী তৈরির ব্যবসা রয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে পর্বত অভিযান শুরু করা সুনীতা অবশ্য এ বারে কোনও স্পনসর পাননি। সুদেববাবু কলকাতা থেকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘অভিযানের যা খরচ নিজেরাই জোগাড় করেছি। সুনীতার অন্যতম ভাল লাগার জায়গা হল পাহাড়।’’ অন্তত ১৫ লক্ষ টাকা অভিযানে খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে।

দেবরাজ অবশ্য দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্পনসর পেয়েছে। কাঙলা টার্বো ১, নীলকণ্ঠ, ইন্দ্রাসন, ত্রিশূলি পশ্চিম, শিনখুন পূর্ব, মামোস্টঙ্গ কাঙরি, সাসের কাঙরি সহ বিভিন্ন শৃঙ্গ জয় করেছেন দেবরাজ। ন্যাফের সদস্য দেবরাজ জানিয়েছেন, রবিবার থেকে তাঁদের অভিযান শুরু হবে। এ দিন নেপালে রওনা দেওয়ার আগে দেবরাজ বলেন, ‘‘গত বছর অভিযান শুরুর আগে ছন্দার সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছিল। এ বার নতুন উদ্যমে শুরু করছি।’’

ছন্দা গায়েনের স্মৃতিচারণ করলেন সুনীতাও। সুনীতা বলেন, ‘‘দু’হাজার বারো সালের একটি অভিযানে ছন্দার সঙ্গে দল পরিচালনা করেছি। আশা করছি এবার সফল হতে পারব।’’

দুই পর্বতারোহীর অভিযানের সাফল্য কামনা করে সংবর্ধনার অনুষ্ঠানেও যেন জুড়ে থাকলেন ছন্দা গায়েন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement