ফাইল চিত্র।
উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম নেই দিনহাটার।
ওই কেন্দ্রে ভোটে জিতে পদত্যাগ করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। বাসিন্দাদের অনেকে আশা করেছিলেন, একই সঙ্গে রাজ্যে সব কেন্দ্রের উপনির্বাচন হবে। সেখানে দিনহাটাও থাকবে। তা না হওয়ায় একাংশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে দিনহাটায় নানা কাজে অসুবিধা হচ্ছে। বিধায়ক নেই। কোচবিহারের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ি দিনহাটার ভেটাগুড়িতে হলেও তাঁকে প্রায়ই পাওয়া যায় না।
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলও দিনহাটায় দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, কোভিড সংক্রমণের দিক থেকে দিনহাটার অবস্থা এখন অনেক ভাল। তাই নির্বাচন না হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিজেপি অবশ্য দাবি করেছে, প্রতিষেধকের কাজ শেষ না করে কোথাও উপনির্বাচন করা উচিত নয়।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান তথা দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, “নির্বাচন কমিশন কেন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিল, সে কথা তারাই ভাল বলতে পারবে। আমরা মনে করছি, সব ক’টি আসনেই একসঙ্গে উপনির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। দিনহাটার মানুষ শংসাপত্রে সাংসদ-বিধায়কের সইয়ের জন্যে বাইরে ঘুরছেন। আরও অনেক
সমস্যা হচ্ছে।”
বিজেপির কোচবিহার জেলার সভানেত্রী তথা বিধায়ক মালতী রাভা অবশ্য দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের উপরে তাঁদের আস্থা রয়েছেন। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে কোথাও উপনির্বাচন ঠিক নয়। আগে প্রতিষেধকের কাজ শেষ করা প্রয়োজন রয়েছে। তার পরেও কমিশন উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে। আমাদের কমিশনের উপরে আস্থা আছে। দিনহাটার ক্ষেত্রে ঠিক
সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন এ দিন ভবানীপুরে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে জঙ্গিপুর ও সামসেরগঞ্জ কেন্দ্রেও নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ওই ’দুটি কেন্দ্রে বিধানসভা ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু বাকি আরও চারটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। ওই চারটির মধ্যে একটি
কেন্দ্র দিনহাটা।
এ বারের বিধানসভায় দিনহাটা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন উদয়ন গুহ এবং বিজেপির প্রার্থী ছিলেন সাংসদ নিশীথ প্রমাণিক। ৫৭ ভোটে উদয়নকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিল নিশীথ। পরে তিনি সাংসদই থেকে যান। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। তৃণমূলের দাবি, বর্তমানে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা খুব খারাপ। যে কোনও জায়গায় ভোট হলে হেরে যাবে তারা। সে জন্যেই ভোট পিছিয়ে দেওয়ার দাবি করছে।
যদিও বিজেপির দাবি, দিনহাটা কেন্দ্রে এখনও তারা শক্তিশালী। যে কোনও সময়েই তারা তা প্রমাণ করবে।