বেশ কিছু বাড়ি বেআইনি: ডিএম

ভবনগুলি নির্মাণ আইন না মেনেই তৈরি হয়েছে এবং জনজীবনের নিরাপত্তার পক্ষেও বিপজ্জনক। পরে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, তদন্তের মাধ্যমেই এই অনিয়মগুলি সামনে এসেছে।

Advertisement

পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়

দার্জিলিং শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ ০৩:২৯
Share:

প্রতীকী ছবি।

দার্জিলিং পুর এলাকা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ভবন বেআইনি, জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কানওয়ালজিৎ সিংহ চিমাকে এক চিঠিতে জানালেন জেলাশাসক জয়সী দাশগুপ্ত। ওই চিঠিতে তিনি ভবনগুলির কয়েকটির বর্ণনাও দেন। দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে পূর্ত দফতরের জমিতে তৈরি একটি বাড়ি এবং দু’টি হোটেলও রয়েছে। ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ভবনগুলি নির্মাণ আইন না মেনেই তৈরি হয়েছে এবং জনজীবনের নিরাপত্তার পক্ষেও বিপজ্জনক। পরে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, তদন্তের মাধ্যমেই এই অনিয়মগুলি সামনে এসেছে।

Advertisement

রাজ্য প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, দার্জিলিংয়ের মতো পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় কোথায়, কী ভাবে নির্মাণ কাজ করা যাবে বা হোটেল-দোকান খোলা যাবে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।

পাহাড়ে স্থায়ী পাকা নির্মাণের ব্যাপারে দেশের শীর্ষ আদালতেরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে সরকারি আধিকারিকদের অনেকেই জানিয়েছেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছেও দার্জিলিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সে ক্ষেত্রে কোথায় দোকান বা বাড়ি তৈরি করা যাবে এবং ব্যবসা চলবে, তা স্থানীয় পুর প্রশাসনকেই দেখতে হবে, বলছে রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য।

Advertisement

জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে জেলাশাসক ওই চিঠিতে লিখেছেন, দার্জিলিংয়ের আন্তর্জাতিক যুব আবাসের পাশে সাত তলা বাড়িতে বহু দোকান চালু হয়েছে। সম্প্রতি সেগুলি ভাড়ায়

দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দফতরের জমিতে বেআইনি ভাবে পাকা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এমনও জানাচ্ছে, সরকারি জমিতে বেআইনি ভাবে হোটেল তৈরি হয়েছে এবং পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে, এমন উদাহরণও রয়েছে। চিঠিতে জেলাশাসক স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন, এই ভবনগুলি পরিষ্কার ভাবে পুর আইন ভেঙেছে। ভবনগুলি বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি। তবে তা ঠিক কার আমলে তৈরি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

চিঠিতে পূর্ত দফতরের জমিতে কয়েকটি বাড়ির কথা বলা হয়েছে। সে সম্পর্কে রাজ্যের পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের একাংশ জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিস্তারিত খোঁজখবর নেবেন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলবেন। পূর্ত দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’’ পুর দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনও অভিযোগ থাকলে স্থানীয় পুরসভার হাতেই ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে।

অন্য দিকে, জয়সী বলেছেন, ‘‘তদন্তে এই ভবনগুলির অনিয়ম সামনে এসেছে। আমরা জিটিএ-কে সব জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন