জাল নোটে মালদহ যোগ

মঙ্গলবার কাকভোরে ধুলিয়ান ফেরিঘাট থেকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জাফরের ধরা পড়ার ঘটনাকে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন জেলা পুলিশের কর্তারা। তাঁদের একজন বলছেন, ‘‘বলাই বাহুল্য, কাজটা মোটেই সহজ ছিল না।’’

Advertisement

বিমান হাজরা

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:৩৩
Share:

ধৃত: জাফর শেখ

রাতভর অপেক্ষার পরে ঝুলি থেকে বেরোল বেড়াল!

Advertisement

দু’-একটা নয়, উদ্ধার হল ১০০টি কড়কড়ে ২০০০ টাকার জাল নোট। সেই সঙ্গে ধরা পড়ল জাফর শেখ। জাফর কে?

সমশেরগঞ্জ থানার ওসি অমিত ভকত জানান, জাফর শেখ বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বৈষ্ণবনগরের পারদেওনাপুরের বাসিন্দা। বছর সাতাশের এই যুবক এলাকায় জাল নোটের অন্যতম কারবারি। মালদহের বৈষ্ণবনগর থানায় তার বিরুদ্ধে পাঁচটি জাল নোটের মামলা রয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। দু’টি জাল টাকার মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) বছর খানেক ধরে হন্যে হয়ে খুঁজছে তাকে। একাধিক বার তার বাড়িতে হানা দিয়েও হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে পুলিশ ও এনআইএ কর্তাদের।

Advertisement

মঙ্গলবার কাকভোরে ধুলিয়ান ফেরিঘাট থেকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জাফরের ধরা পড়ার ঘটনাকে বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন জেলা পুলিশের কর্তারা। তাঁদের একজন বলছেন, ‘‘বলাই বাহুল্য, কাজটা মোটেই সহজ ছিল না।’’

মাঝরাত থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষা। এক সময় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ফেরিঘাটে ঘাপটি মেরে থাকা সাদা পোশাকের পুলিশ আধিকারিকেরা। কিন্তু ‘খবর’ এতটাই পাকা যে, ঝেড়ে ফেলতেও পারছিলেন না তাঁরা। তবুও বার বার ‘সোর্স’-এর কাছে ফোন করলেই উত্তর আসছিল, ‘দেরি হতে পারে। কিন্তু নৌকা ঘাটে ভিড়বেই।’ অগত্যা মশার কামড় খেয়ে সে যেন এক অনন্ত অপেক্ষা।

অবশেষে ভোরের আবছা আলোয়, পাড় থেকে বেশ কিছুটা দূরে দেখা মিলল একটি নৌকার। পুলিশকর্মীরা তৈরিই ছিলেন। এ বার যে যার মতো ‘পজিশন’ নিলেন। ওসি-র নির্দেশ, ‘‘পাড়ে এলেই মাঝি-সহ সব ক’টাকেই ঘিরে ফেলতে হবে। কেউ যেন পালাতে না পারে।”

যেমন নির্দেশ, তেমন কাজ। শুরু হল তল্লাশি। এক যুবকের ব্যাগে হাত পড়তেই বেরিয়ে পড়ল বিড়াল। দু’লক্ষ টাকার জাল নোট। দু’-চার থাপ্পড়েই নাম-ঠিকুজি কবুল করে জাফর। পুলিশের দাবি, দেখলে নেহাতই গ্রামের সাদামাটা যুবক বলে মনে হয়। পুলিশ ও এনআইএ-র ভয়ে সে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে গা ঢাকা দিয়েছিল এতদিন। সেখান থেকেই সীমান্ত দিয়ে জাল টাকা পাচার করছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে জাফর ফের জাল টাকার লেনদেন শুরু করে। এ দিনও সে টাকা নিয়ে আসছিল। পুলিশ আগাম সে খবর পায়। সেই মতো এ দিন গভীর রাত থেকেই ধুলিয়ান ফেরিঘাটে অপেক্ষায় ছিল সমশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। জাফর ধরা পড়ায় জাল টাকা পাচারের মূল চক্রীদের নাম জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গত পাঁচ মাসে ধুলিয়ান থেকে ৩২.৩০ লক্ষ টাকার জাল নোট-সহ ১৬ জন ধরা পড়েছে। জাফরের ধরা পড়ার খবর বৈষ্ণবনগর থানা ও এনআইএ-কে জানানো হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement