গৌতম দেব। ফাইল চিত্র।
প্রতিপক্ষ বিজেপির শঙ্কর ঘোষের কাছে হারের পরে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। দলের কাছে এই বিষয়ে নিয়ে আর্জি জানাবেন বলে মন্তব্য করেছেন। এরপর থেকেই শহর জুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আদৌও পুরসভার বর্তমান বোর্ড থাকবে, নাকি মাঝপথেই ভেঙে যাবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার হলে কি পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানো হবে, তা নিয়ে পুরসভার অন্দরেও কানাঘুষো শুরু হয়েছে। যদিও শিলিগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা বোর্ড চালাচ্ছিলেন, তাঁরাই বোর্ড চালাবেন। মাঝপথে বিজেপি সরকার কোনও বোর্ড ভাঙবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।
শঙ্কর বলেন, ‘‘মাঝপথে আমরা বোর্ড ভাঙব না। নির্বাচন চলাকালীন দু’জন দু’জনকে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু এখন আর সে সব কিছু নয়। যেখানে যেমন বোর্ড চলছে, তেমনই চলবে। বরং পুরসভা চালাতে গৌতমবাবুকে সবরকমের সহযোগিতা আমরা করব।’’ গৌতমের বক্তব্য, ‘‘মেয়র পদ থেকে সরে দাঁডানো নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা করেছি। আমি বিষয়টি দলকে জানাব। দল যেটা বলবে সেটা করব।’’
রাজ্যে ২০০-এরও বেশি আসন নিয়ে বিজেপির জয়ের পরেই শিলিগুড়ি পুরসভায় কানাঘুষো শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর বিজেপির দিকে যাওয়ার জন্যে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। সূত্রের খবর, পুরসভার একাধিক ‘অবাঙালি’ কাউন্সিলর পা বাড়িয়ে রেখেছেন। তালিকায় রয়েছেন পুরসভার সংযোজিত এলাকারও একাধিক কাউন্সিলর। সরকার গঠনের পরেই যদি এই কাউন্সিলরেরা বিজেপির দিকে চলে যান, তবে তৃণমূল বোর্ড অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।
শিলিগুড়ি পুরসভায় বোর্ড গড়তে ২৪ জন কাউন্সিলর প্রয়োজন। বিজেপির এই মুহুর্তে ৪ জন কাউন্সিলর রয়েছেন শিলিগুড়ি পুরসভাতে। অন্তত ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর এই মুহুর্তে পা বাড়িয়ে রেখেছেন বিজেপির দিকে। মহানন্দার ওপারেরও একাধিক কাউন্সিলর যোগ দেওয়ার জন্যে বিজেপির জেলা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে পুরসভায় কী হবে তা নিয়ে উৎসাহিত পুরকর্মীরা।
এ দিকে, রাজ্যে ভরাডুবির পরেই ফের গৌতম দেবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ বর্মণ। অবিলম্বে তাঁর পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘‘এখনই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। উনি শীর্ষ নেতৃত্বকে ভুল বুঝিয়ে এই অঞ্চলে দলটাকে শেষ করেছে। এত ঔদ্ধত্য এবং দুর্নীতি মানুষ নিতে পারেনি।’’ যদিও ভোটের আগে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গৌতম দেবকে সহযোগিতা করার কথা বলেছিলেন দিলীপ। ভোট মিটতেই ফের ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন তিনি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে