SIR in West Bengal

পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু স্ত্রী এবং ন’মাসের সন্তানের, দেহ মর্গে রেখে এসআইআর শুনানিতে গেলেন শিক্ষক!

মালদহ জেলার গাজল থানার খড়দহিল এলাকার বাসিন্দা এমডি ইয়াসিন। মালদহেরই কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তিনি। কর্মসূত্রে বাড়ি ভাড়া করেছেন। স্ত্রী হালিমা খাতুন সেই বাড়িতে থাকতেন। নয় মাসের পুত্রসন্তান আরিফ হাসানও তাঁদের সঙ্গেই থাকত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৫
Share:

স্ত্রীর দেহ মর্গে রেখে এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে গিয়েছেন স্বামী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কর্মসূত্রে বাড়ি থেকে দূরে থাকতেন। এসআইআরের শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার জন্য সপরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু রাস্তায় দুর্ঘটনা! স্ত্রী-সন্তানকে হারানোর পরেও সময়মতো শুনানিকেন্দ্রে গেলেন পেশায় শিক্ষক এমডি ইয়াসিন আনসারি। এসআইআর আবহে এমনই বেনজির ছবি দেখা গেল মালদহে।

Advertisement

মালদহ জেলার গাজল থানার খড়দহিল এলাকার বাসিন্দা এমডি ইয়াসিন। মালদহেরই কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তিনি। কর্মসূত্রে বাড়ি ভাড়া করেছেন। স্ত্রী হালিমা খাতুন সেই বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের সঙ্গেই থাকত নয় মাসের পুত্রসন্তান আরিফ হাসানও।

পরিবার সূত্রে খবর, নামের বানান ভুল থাকায় শুক্রবার গাজলে শুনানিকেন্দ্রে হাজির হওয়ার কথা ছিল স্কুলশিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রীর। সেই কারণে বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী এবং নয় মাসের সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

Advertisement

তাঁরা বাস ধরবেন বলে টোটো করে আমবাজার এলাকায় আসছিলেন। সুস্তানি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটো উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হালিমার। রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাকেও।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাড়ির লোকজন এবং আত্মীয়স্বজনদের খবর পাঠান শিক্ষক। স্ত্রী এবং সন্তানের দেহ মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত বিভাগে রেখেই শুনানিকেন্দ্রে চলে যান শিক্ষক। হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন আত্মীয়-স্বজনেরা। ইয়াসিন শুনানি শেষ করে হাসপাতালে গেলে দেহ কবরস্থ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আত্মীয়স্বজনেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement