প্রতীকী ছবি।
কলকাতা বা হাওড়া যখন সংক্রমণে লাল সঙ্কেত দিচ্ছে, সেই সময়ে উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলা ছিল সবুজ। কিন্তু লকডাউনের দ্বিতীয়ার্ধে এসে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। প্রশাসনের একটি অংশের কথায়, বিশেষ করে ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের বাড়িতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে এই লেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৯-এ। হাজারের থেকে মাত্র ১১ কম।
করোনা নিয়ন্ত্রণে উত্তরবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘আক্রান্ত বাড়বে সেটা জানাই ছিল। সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই কোনও উপসর্গ নেই। তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। অধিকাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। পরিযায়ীদের লালারস পরীক্ষা, কোয়রান্টিনে রাখার ব্যবস্থাও জেলাগুলিতে প্রয়োজন মতো করা হচ্ছে।’’
প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের আট জেলা মিলিয়ে দু’লক্ষের বেশি শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন। তাঁরা ঘরে ফেরার পরেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে, এটাও মেনে নিয়েছে ওই সূত্র। শুধু মালদহে সরকারি হিসেবে ৩৫ হাজারের মতো পরিযায়ী ফিরেছেন। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা এক লক্ষের কাছে। কোচবিহারে লক্ষাধিক শ্রমিক ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরেছেন। ২৯ মে পর্যন্ত কোচবিহারে হাতে গোনা আক্রান্ত ছিলেন। ৩০ মে এক ধাক্কায় জেলায় ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে ৩২ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার পরের ১০ দিনে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩ জনে। জেলায় কোভিড হাসপাতাল চালুর তোড়জোড়ও চলছে। মালদহে ২৩ এপ্রিল প্রথম জন আক্রান্ত হন। ১০ মে থেকে পরিযায়ীদের নিয়ে ট্রেন ঢুকতে শুরু করলে আক্রান্তও বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ২২৯ জন। উত্তর দিনাজপুরে আক্রান্ত ২০৭ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলাও আক্রান্তের সংখ্যায় ‘সেঞ্চুরি’ করে ফেলেছে। প্রশাসনিক সূত্রে বলা হচ্ছে, পরীক্ষার পরিমাণ বেড়েছে বলে আক্রান্তের সংখ্যাও স্বাভাবিক ভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
পরিযায়ীদের কোয়রান্টিনে রাখতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কোয়রান্টিন সেন্টারে জায়গা, খাবারের অভাবে অনেকেই বাড়ি ফিরে আসছেন। হোম কোয়রান্টিনও নামেই। আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে জেলায় জেলায় কোভিড হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বাড়ানো হয় লালারস পরীক্ষার ব্যবস্থা। ২৯ মার্চ থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে লালারস পরীক্ষা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে ৩৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
৮ এপ্রিল থেকে মালদহ মেডিক্যালে পরীক্ষা শুরু হয়। সেখানে ২২ হাজারের মতো পরীক্ষা হয়েছে। শিলিগুড়ির পর মালদহ, রায়গঞ্জে কোভিড হাসপাতাল চালু করা হয়। দু’দিন আগে আলিপুরদুয়ারেও কোভিড হাসপাতাল চালু হয়েছে। আশার কথা, মৃত্যুর হার কম। এখন পর্যন্ত উত্তরে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয়, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে।