প্রতীকী ছবি
মালদহে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল।
জেলা স্বাস্থ দফতর সূত্রে খবর, জেলায় প্রথম এক হাজার সংক্রমিত হতে সময় লেগেছিল ৭৬ দিন, পরের এক হাজার হতে সময় লাগলো মাত্র ১৬ দিন। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় আরও ৫৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাতে আক্রান্তের সংখ্যা হল ২০৭৩ জন।
এ দিকে, দু'সপ্তাহের মধ্যে করোনা সংক্রমণে হাজার পেরোল দক্ষিণ দিনাজপুর। সোমবার নতুন করে আরও ২৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন। জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল ১০১০ জন। সংক্রমিতের নিরিখে এগিয়ে বালুরঘাট শহর। এ দিন পর্যন্ত বালুরঘাটে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জন।
মালদহে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২৬ এপ্রিল। তার পরে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১০ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার পেরিয়ে যায়। সোমবার সেই সংখ্যা পৌঁছল ২০৭৩-এ।
সংক্রমণ রুখতে এই জেলায় দফায় দফায় লকডাউন হয়েছে। কিন্তু তাতেও সংক্রমণ আটকায়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু কেন? চিকিৎসকদের একাংশের মতে, জেলায় লকডাউন বিধি সঠিকভাবে কার্যকর করা হয়নি। আনলক-পর্বে জেলার দুই শহর তো বটেই, এমনকি গ্রামের বাজারগুলিতেও সামাজিক দূরত্ববিধি মানা হয়নি। মাস্ক না পড়েই ঘুরে বেরিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। টোটো বা অটোয় গাদাগাদি করে চলাচল করা হয়েছে। তার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে।
জেলাবাসীর একাংশের বক্তব্য, অসচেতনতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে লকডাউনেও অনেকে বেপরোয়া এবং তাঁদের ঘরমুখো করতে পুলিশকে লাঠিপেটা পর্যন্ত করতে হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও হুঁশ নেই। লকডাউন না থাকলেই ভিড় বাজার, রাস্তা, সর্বত্র।
জেলায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে করোনা সংক্রমিত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রাতে জেলায় নতুন করে ৫৩ জন আক্রান্ত হন। তার মধ্যে ইংরেজবাজার শহরের আক্রান্ত হয়েছেন ১৫, পুরাতন মালদহ শহরে ৯ জন, গাজলে ৮ জন এবং বাকিরা অন্যান্য ব্লকে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩০১ জন। সোমবার তা হাজার পেরিয়ে গেল। দ্রুত করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে শহরবাসীর একাংশের অচেতনতাকেই দায়ী করেছে স্বাস্থ্য দফতর। এ দিন মালদহের ল্যাব ২৮ জনের পজ়িটিভ রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বালুরঘাট শহরে ২ জন, বংশীহারিতে ৯, কুমারগঞ্জে ৬, কুশমণ্ডিতে ৩, গঙ্গারামপুরে ৬, তপন এবং হরিরামপুর ব্লকে ১ জন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের সেফ হোমে আনা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।