প্রতীকী ছবি।
গ্রামীণ এলাকার পরে এ বারে কি করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে জেলা সদর শহরে? গত ২৪ ঘণ্টায় মালদহ জেলায় যে ৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনই ইংরেজবাজার শহরের বাসিন্দা হওয়ায় এই প্রশ্ন উঠেছে। অন্য দিকে, ভিন্ রাজ্য থেকে করোনা আক্রান্ত এক শ্রমিক ফিরলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তিনি বাগডুমার বাসিন্দা। হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে ১৪ জুন ফিরে বাড়িতেই ছিলেন। বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে বুধবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে জানান, ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা পরিজনদের ফেসিলেটেড কোয়রান্টিনে আনা হচ্ছে।
মালদহ জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে আক্রান্তদের মধ্যে এক জন মহিলা পুলিশকর্মী, ইংরেজবাজার শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রিন পার্কে ভাড়াবাড়িতে থাকেন। এক জন মালদহ মেডিক্যালের টেকনিশিয়ান, তিনি হাওড়ার বাসিন্দা হলেও শহরের কৃষ্ণপল্লিতে ভাড়াবাড়িতে থাকেন। আর এক জন ওই হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের মহিলা সুপারভাইজ়ার, তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডেরই কৃষ্ণকালীতলার বাসিন্দা। অন্য দু’জন পরিযায়ী শ্রমিক। দিল্লি থেকে ফেরা এক মহিলা শ্রমিকের বাড়ি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালুচর অরবিন্দ কলোনিতে। অরুণাচলপ্রদেশ থেকে ফেরা আর এক শ্রমিকের বাড়ি ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যারাক কলোনিতে।
এ ছাড়াও আরও দুই আক্রান্তের এক জনের বাড়ি ইংরেজবাজার ব্লকের নরহট্টা পঞ্চায়েতের বুধিয়া ভাটাটোলা গ্রামে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ৫৩ বছরের আরও এক বাসিন্দা আক্রান্ত। যদিও এ দিন সন্ধে পর্যন্ত তাঁর হদিস পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৩১।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকরা বেশির ভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সেখানেই প্রকোপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ইংরেজবাজারে কৃষ্ণকালীতলার বাসিন্দা মালদহ মেডিক্যালের এক নার্স আক্রান্ত হন। তার তিন দিনের মধ্যেই শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর এলাকার এক যুবক আক্রান্ত হন। বুধবার শহরের ৫ জনের লালারসের রিপোর্ট পজ়িটিভ এল। মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ছ’জনকে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক জনের খোঁজ চলছে।’’
দক্ষিণ দিনাজপুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুগ্রামেই আক্রান্ত শ্রমিকের নমুনার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। সেই অবস্থাতেই তাঁকে সেখান থেকে কেন ছাড়া হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আধিকারিকদের একাংশ। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনেই তিনি ফেরেন। এ দিকে, মঙ্গলবার রাতে প্রশাসনিক বৈঠকে দক্ষিণ দিনাজপুরে করোনা পরীক্ষার জন্য আরটিপিসিআর ল্যাব চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই ল্যাব স্থাপনের জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে ডিপিআর পাঠাতে বলেন জেলাশাসক নিখিল নির্মল।