মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোট প্রচারে নেমে উত্তরবঙ্গে প্রথম তিন সভায় বিক্ষুব্ধ এবং অভিমানীদের দলের পাশে থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারা প্রথমে মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন তা বাছাই করা, মঞ্চে বসার আসনে গুরুত্ব দিয়ে ময়নাগুড়ির অনন্তদেব অধিকারী থেকে রাজগঞ্জের খগেশ্বর রায় এবং শিলিগুড়ির রোমা রেশমী এক্কাকে প্রচারে শামিল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বার্তায় অভিমানীরা প্রকাশ্যেই নিজেদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নকশালবাড়ির সভায় কোচবিহারের নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মেয়ে পাপিয়া ঘোষকে ডেকে রবির স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে সভায় বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমার শুনে খারাপ লাগল যে রবির ডায়ালেসিস হচ্ছে। আমি আরোগ্য প্রার্থনা করব, আরোগ্য কামনা করব।’’ রবি ঘোষকেও এ বারে প্রার্থী করেনি তৃণমূল।
বুধবার প্রথমে ময়নাগুড়িতে জনসভা শুরু করে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভায় জনসভা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিন সভাতেই মঞ্চে আগে থেকেই স্থান নির্দিষ্ট করা ছিল বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থীর দাবিদার হয়েও যাঁরা দলের টিকিট পাননি তাঁদের। ময়নাগুড়ির টাউন ক্লাব মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভা মঞ্চে প্রথম সারিতেই বসানো হয়েছিল পুরপ্রধান মনোজ রায়কে। তিনি ময়নাগুড়িতে প্রার্থী হওয়ার অন্যতম দাবিদার ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠে নির্দেশ দেন প্রথমে প্রাক্তন বিধায়ক এবং পুরপ্রধান অনন্তদেব অধিকারী বলবেন, তারপরে প্রার্থী এবং শেষে তিনি বলবেন।
সেই ভাবেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির জনসভায় বক্তা ছিলেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়। এ বার প্রার্থী হতে না পেরে তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী-অভিষেকের ফোনে মানভঞ্জন হয়। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং মাটিগাড়া নকশালবাড়ি দুই সভাতেই বক্তব্য রাখেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রোমা রেশমী এক্কা। ফাঁসিদেওয়ায় রোমা টিকিট না পাওয়ায় তাঁর অনুগামীরা পথ অবরোধও করেছিল। রোমা বলেন, “প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে পেরে আমি খুশি।”
তিন সভাতেই মহিলাদের উপস্থিতি ছিল বেশি। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আদলে বিজেপি মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এ বারের ভোটে। মমতা বলেন, “এরা বলে নাকি অন্নপূর্ণা ভান্ডার। বিহারে ভোটের আগে মহিলারা ভাবল আট হাজার পাচ্ছি, তারপরে ভোটের পরেই বুলডোজার। সব ভেঙেচুরে তছনছ করে দিয়েছে।’’
বিকেলের সভার পরে জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের পাল্টা মন্তব্য, “সবেতেই তৃণমূলের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি বাংলার জনগণ হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন।”
শিক্ষকের মৃত্যু
মাথাভাঙা: স্কুলে মেয়েকে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বুধবার মাথাভাঙা কোচবিহার রাজ্য সড়কে পঞ্চানন সেতুতে ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের। মৃতের নাম রাজকুমার মজুমদার (৪৫)। বাড়ি মাথাভাঙা ২ ব্লকের পারাডুবি পঞ্চায়েতের ভেরভেরি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন তিনি মোটরবাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় ডাম্পারের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিবারের লোকজন থানায় অভিযোগ জানাননি। তবে ডাম্পারের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে