অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার খুশিতে আবির খেলায় মাতলেন মহিলারা। জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় চৌধুরী পাড়ায়। নিজস্ব চিত্র ।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, সেই আশায় ছিলেন সব আবেদনকারীই। দিনের শেষে অবশ্য কারও অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছল, কেউ এখনও তা পেলেন না। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে মালদহ— সব জেলাতেই রাজ্য সরকারের ওই প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভে সামিল হলেন আবেদনকারী মহিলাদের একটি অংশ। যাঁদের অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, তুলনামূলক ভাবে স্বচ্ছল অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। বাদ পড়েছেন যোগ্যরা। প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, যাঁরা ওই প্রকল্পের যোগ্য, তাঁদের প্রত্যেকেই টাকা পাবেন। অযোগ্য কেউ টাকা পেয়ে থাকলে আগামী দিনে তাঁর নাম বাতিল হবে।
এ দিন দুপুরে কোচবিহার সদর মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেখানে হাজির হওয়া সুস্মিতা মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে অফলাইনে আবেদন করেছি। অথচ টাকা পাইনি। যোগ্য নন এমন অনেকে টাকা পেয়েছেন।’’ ধূপগুড়ি পুরসভাতেও বিক্ষোভে সামিল হন মহিলারা। শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে অবশ্য এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কোনও বিক্ষোভ দেখানো হয়নি। রায়গঞ্জ পুরসভায় কয়েকশো মহিলা পুরসভার প্রশাসক তথা মহকুমাশাসক (রায়গঞ্জ) তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে হাজির টিনা চক্রবর্তী সাহা বলেন, ‘‘আমরা নিয়ম মেনে পুরসভা ও অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু টাকা পাইনি। অথচ, বিত্তশালী পরিবারের অনেক মহিলা টাকা পেয়েছেন।’’ বালুরঘাটের মহকুমাশাসকের দফতরের সামনেও একই অভিযোগে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছয়।
উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের দাবি, গত রবিবার রাতে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সরকারি পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিশেষ কোনও সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্যে উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় গোলমাল হতে পারে।
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে টাকা না পেয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুরাতন মালদহ পুরসভায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান মহিলাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র পূরণে তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধিরা স্বজনপোষণ করেছেন। পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি পুরপ্রতিনিধি স্বপ্না দাস বলেন, “রাজ্য সরকারকে বদনাম করতেই আবেদনপত্র পূরণে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা গাফিলতি করেছে।” তৃণমূলের পুরপ্রধান বিভূতিভূষণ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের কোনও ভূমিকা নেই। প্রশাসন থেকে সব করা হয়েছে।”
জলপাইগুড়িতে ধরা পড়েছে অন্য চিত্র। সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েই অকাল হোলিতে মাতলেন সংখ্যালঘু মহিলারা। রাজগঞ্জের ২১৫ নম্বর বুথের ২৬০টি পরিবার রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারের মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন বলে দাবি। রেজিনা বেগম বলেন, ‘‘আবেদন করে টাকা পেয়েছি। তাই আবির খেলে সবাই মিষ্টিমুখ করেছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে