ছেলেকে চুরির অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রামের কর্মনী গ্রামে। মৃতের নাম ফেকু রজক (৪৮)। তিনি পেশায় একটি ইটভাটার শ্রমিক। ঘটনায় আহত হয়েছে তাঁর স্কুল পড়ুয়া ছেলে সুশান্ত রজক। সুশান্ত চণ্ডীপুর হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ রজককে গ্রেফতার করে পুলিশ। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’ এ সময় মালদহের বহু পরিবারের সদস্যই আমবাগানে আম পাড়ার কাজ করেন। সন্ধে পর্যন্ত তেমনই গ্রামের একটি বাগানে আম ভাঙার কাজ করছিলেন সুশান্ত। কাজ সেরে মোটরবাইক নিয়ে বাগানের পথ ধরে কাজিগ্রাম বাজারের দিকে আসছিলেন তিনি। সেই সময় গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বনাথ রজক মদ্যপ অবস্থায় তাঁর পথ আটকায়। বাগানের আম চোর বলে দাবি করে গালিগালাজ শুরু করে দেয়। তারপরেই তাঁর কাছে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে সুশান্তের মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগ। বাগানে চিৎকার শুনে পড়শি ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সুশান্তকে ভর্তি করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজও হাসপাতালে। এদিন রাত আটটা নাগাদ কাজ সেরে বাড়ি ফেরে ফেকু বাবু। তিনি সমস্ত ঘটনা শুনে বিশ্বনাথের কাছে প্রতিবাদ জানাতে যান। আচমকা বিশ্বনাথ ফেকুর উপর এলোপাথাড়ি হাঁসুয়ার কোপ মারে। ফেকুবাবুর গলায় হাঁসুয়ার কোপ মারলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়েরা উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা বিশ্বনাথের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায়। এমনকী তাঁকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। আজ, মঙ্গলবার ধৃত বিশ্বনাথকে আদালতে পেশ করা হবে।