ঐতিহ্যের যাত্রাগান ভুলে পুজোয় এ বার জলসা

শামুকতলা দুর্গাবাড়ির পুজো মানেই মঞ্চ বেঁধে রাতভর যাত্রা গান। ৬৯ বছর ধরে এটাই ছিল দুর্গাবাড়ির ট্র্যাডিশন। কিন্তু যাত্রাগানের প্রতি মানুষের উৎসাহ কমতে থাকায় এবার সেই ট্র্যাডিশন ভেঙে পুজার চার দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন উদ্যোক্তারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০১:১৫
Share:

শামুকতলা দুর্গাবাড়ির পুজো মানেই মঞ্চ বেঁধে রাতভর যাত্রা গান। ৬৯ বছর ধরে এটাই ছিল দুর্গাবাড়ির ট্র্যাডিশন। কিন্তু যাত্রাগানের প্রতি মানুষের উৎসাহ কমতে থাকায় এবার সেই ট্র্যাডিশন ভেঙে পুজার চার দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের কথায়, রাত জেগে যাত্রা গান শোনার আগ্রহ এখন আর নেই। তাই গত কয়েক বছর ধরে যাত্রা গান শোনার জন্য আর তেমন ভিড় হচ্ছিল না। তাই এ বছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয় এবং বাইরের শিল্পীদের নাচ গান দিয়ে চারদিনের অনুষ্ঠান সাজানো হবে। এতে অবশ্য নবীন প্রজন্ম খুশি হলেও মুখভার প্রবীণদের একাংশের।

Advertisement

শামুকতলা দূর্গাবাড়ির সম্পাদক রাজা চক্রবর্তী জানান, ১৯৪৭ সালে শামুকতলা দুর্গাবাড়ির পূজা শুরু হয়। সে সময় উদ্যোক্তারা নিজেরাই মঞ্চ বাঁধতেন এবং যাত্রায় অভিনয় করতেন। পরবর্তী কালে কলকাতার বিভিন্ন যাত্রা দল আসত। পুজোর চারদিন সেই যাত্রা শুনতে দুর্গাবাড়ির মাঠে ভিড় উপচে পড়ত। তখন বিদ্যুতের আলো ছিল না। গ্যাসের লাইট জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা হত। যানবাহনের ব্যবস্থাও তেমন ছিল না। রাস্তাঘাট খারাপ ছিল। তবুও বহু দূর থেকে গরুর গাড়িতে চেপে যাত্রাগান শুনতে আসতেন মানুষ। সন্ধ্যার মধ্যেই মাঠে জায়গা দখল করতেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েক বছর ধরে আমরা লক্ষ্য করছি যাত্রার প্রতি আগ্রহ আর আগের মত নেই। তাই আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ একই কথা শোনা গেল সভাপতি বলাই পালের বক্তব্যে। তিনি জানালেন, ‘‘দুর্গাবাড়ির ঐতিহ্য থেকে সরে আসতে হচ্ছে মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করেই।’’

পাড়ার প্রবীণ মানুষ বাপ্পা মৈত্রের কথায় ‘‘দুর্গাবাড়ির পূজা মানেই যাত্রা গান। ছোট বেলা থেকে তাই দেখে আসছি। সন্ধ্যা হতেই কনসার্ট বেজে উঠতো। রাত জেগে যাত্রা গান শুনতাম। আমি নিজেও অভিনয় করতাম। এখন আর সেই কনসার্ট বাজবে না, ভাবতে খারাপ লাগলেও সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। সেটা মেনে নিতে হচ্ছে।’’ প্রবীণদের মুখে এমন মন খারাপের কথা শোনা গেলেও গঙ্গোত্রী, আদিত্য, টুইঙ্কলরা খুশি। তাদের কথায় ‘‘যাত্রাগান আমাদের ভাল লাগে না। তার চেয়ে নাচ গান হলে অনেক ভাল হয়।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement