তন্ন তন্ন করে মালদহে খোঁজা হয়েছিল। পাওয়া যায়নি। রাজ্যের নানা জায়গায় খোঁজখবর করা হয়েছে, সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত, কলকাতায় আছে জানা গেলেও, এত বড় শহরের কোথায় লুকিয়ে রয়েছে বকুল শেখ, তা ডানতে পুলিশের সময় লেগেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, কলকাতাতেও বকুলের হদিশ সহজে মেলেনি। মাত্র দিন কয়েক আগে খবর মেলে পঞ্চসায়রের একটি গেস্ট হাউসে রয়েছে সে। তার পরই ছক কষে মালদহ পুলিশ ও এসটিএফ যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি কালিয়াচকের নওদা যদুপুরের জাকির শেখের ঘনিষ্ঠ ইব্রাহিম শেখের স্কুল পড়ুয়া ছেলে ইলিয়াস শেখকে অপহরণ করে খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন বকুল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কম পক্ষে সাতটি খুনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে, হুমকি দিয়ে তোলাবাজি, গুলি করে খুনের চেষ্টা, বোমাবাজি, অপহরণ, ছিনতাই, বেআইনি ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখার মতো অভিযোগ রয়েছে। তবে তার কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে। তাকে জেরা করলে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচকের নওদা যদুপুরের ত্রাস হিসেবে জেলায় পরিচিত বকুল ছিল সিপিএমের গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য। ২০১০ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়েই ওই অঞ্চলের দলের সভাপতি হন তিনি। তার নেতৃত্বেই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২৩টি পঞ্চায়েত ও তিনটি পঞ্চায়েত সমিতির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল। বকুলের সঙ্গে এলাকার অপর এক ত্রাস জাকির শেখের লড়াই রয়েছে। দুই গোষ্ঠীর লড়াই এর মাঝে পড়ে খুন হন নিরীহ এক ট্রাক মালিক। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তার পরই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা শুরু হয়।
নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা বকুল শেখ। তার বাবার নাম হাজি আলাউদ্দিন শেখ। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বকুলই বড়। বকুলের দুই স্ত্রী। ছেলে মেয়ে চার জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বকুলের কাকা এলাকায় কুখ্যাত। তিনি ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। গ্রামের আম বাগান, জমি দখলের অভিযোগও ছিল। সে কারণে বকুলের পরিবারকে বরাবরই ভয় পেত গ্রামবাসীরা। সেই কাকার ছত্রছায়াতেই বেড়ে ওঠে বকুল।
প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। ২০০০ সালের দিকে ভাগলপুরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন বকুলের কাকা। দু’বছর পর খুন হন বকুলের মেজো ভাই। তারপর থেকেই বকুল বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ।