ফাইল চিত্র।
জামিন পেলেন দণ্ডিকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। শুক্রবার বিকেলে বালুরঘাট আদালতে এসে জামিন নিয়ে যান দক্ষিণ দিনাজপুরে শাসক তৃণমূলের ওই নেত্রী। আদালত সূত্রে খবর, প্রদীপ্তার আদালতে আসা এবং জামিন নেওয়া— গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপন ভাবে করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হয় শনিবার সকালে।
গত বছর তপনে বিজেপি ছে়ড়ে দলে ফিরে আসতে চাওয়া তিন আদিবাসী মহিলা দণ্ডি কাটিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করানোর অভিযোগ উঠেছিল প্রদীপ্তার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি। তৃণমূল সরকারকে ‘আদিবাসী বিরোধী সরকার’ বলে কটাক্ষও করেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে প্রদীপ্তা অবশ্য প্রথম থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জেলায় এসে তিন নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রদীপ্তাকেও দলীয় পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রদীপ্তা ছাড়াও পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আনন্দ রায়, বিশ্বনাথ দাসের নাম ছিল। তাঁরা আগেই বালুরঘাট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এ বার পেলেন প্রদীপ্তাও। সরকারি আইনজীবী উদয় ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘‘এই মামলায় ১৬ জুন পিটিশন দাখিল করেন প্রদীপ্তা চক্রবর্তী আর ২৩ তারিখেই তাঁকে শুনানির জন্য তলব করেন হাকিম। উভয় পক্ষের কথা শুনে হাকিম প্রদীপ্ত চক্রবর্তীর জামিন মঞ্জুর করেন।’’
বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, ‘‘মানুষের এর পর আর প্রশাসনের উপর বিশ্বাস থাকবে না। নির্যাতিতাদের উপর রাজনৈতিক চাপ ছিলই। তাই তাঁরা তাঁদের বয়ান পরিবর্তন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সব দেখছে, সব বুঝতে পারছে কী ঘটনা ঘটেছে। আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের পর কী করে এক জন বিনা সাজায় জামিন পেয়ে যান, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। উনি প্রভাবশালী ঘরের বধূ বলেই এটা সম্ভব হল।’’
তৃণমূলেপ নেতা সুভাষ চাকির বক্তব্য, ‘‘দল এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না, তাই প্রদীপ্ত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছে দল। কিন্তু কোর্টের রায়ের বিষয়ে কিছু বলার নেই। পুলিশ তদন্ত করে যা পেয়েছে, সেই অনুযায়ী চার্জশিট তৈরি হয়েছে এবং আদালতে সেটাই জমা পড়েছে। আদালত তার ওপরেই বিচার করবে। জামিন পেয়ে যাওয়া মানে বিচার প্রক্রিয়া শেষ নয়। এই বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলবে।’’