ধূপগুড়ির স্কুলে ভেঙে পড়েছে ছাদের একাংশ। — নিজস্ব চিত্র।
ক্লাস চলাকালীন ধসে পড়ল স্কুলের ছাদের একাংশ। এক শিক্ষিকার তৎপরতায় অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল চার পড়ুয়া। ধূপগুড়ি মহকুমার মাগুরমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জলঢাকা গিরিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা।
বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন আচমকাই শ্রেণিকক্ষের ছাদের কংক্রিটের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এক শিক্ষিকার উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত পদক্ষেপে চার জন পড়ুয়াকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জীর্ণ। ছাদের কংক্রিট ধীরে ধীরে খসে পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এসআই অফিসে লিখিত ভাবে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরে আবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন অভিভাবকেরা। তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনও পড়ুয়ার প্রাণহানি ঘটত, তার দায় কে নিত? অবিলম্বে স্কুলবাড়ি সংস্কার অথবা বিকল্প জায়গায় পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা। ধূপগুড়ির বিডিও সোমনাথ হালদার জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এসআই-কে জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
স্কুলের শিক্ষা রূপা ঘোষ বলেন, ‘‘ছাদের কংক্রিট অনেক দিন ধরেই খসে পড়ছিল। বিষয়টি আমরা একাধিক বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এসআই অফিসকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আজ ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে। দ্রুত পড়ুয়াদের সরিয়ে নেওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’’ স্কুল পড়ুয়া কৃষ্ণগোপাল শর্মা বলেন, ‘‘আমরা ক্লাস করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ করে ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে। দিদিমণি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাইরে নিয়ে যান। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’’