শ্রমিকদের একাংশ দালালদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জমি দখল করতে চাইছে অভিযোগে বাগানে কাজ বন্ধের নোটিস ঝুলিয়ে দিল মালিকপক্ষ।
কার্শিয়াং মহকুমার গাড়িধূরা লাগোয়া শিমুলবাড়ি চা বাগানের ঘটনা। বুধবার সন্ধ্যার পর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে কাজ বন্ধের নোটিশ দিয়ে বাগান ছেড়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে গত কয়েক মাসে দার্জিলিং জেলার তরাই এলাকায় বন্ধ হয়ে গেল ৩টি বড় চা বাগান।
বৃহস্পতিবার সকালে বাগানে কাজে গিয়ে নোটিশটি দেখেই বিপাকে পড়ে যায় শ্রমিক পরিবারগুলি। বাগান খোলার দাবিতে সরব হয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। দার্জিলিঙের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘বাগানের একটি নথিভুক্ত জমিকে ঘিরেই সমস্যার সূত্রপাত। কিছু শ্রমিক এলাকায় নতুন করে চা বাগান করতে দিয়ে রাজি নন। সমস্যা মিটিয়ে বাগানটি খোলার জন্য আলোচনা শুরু হয়েছে।’’
মালিকপক্ষের দাবি, বাগানের মালিভিটা সেকশনে ১৮০ একর জমি নিয়ে বছর খানেক ধরে সমস্যা চলছে। বাগানের ওই অংশে কোনও চা বাগান ছিল না। কিছু আদিবাসী শ্রমিক পরিবার সেখানে চাষাবাদ করতেন। এখন সেখানে নতুন করে চা চাষ করতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মালিকপক্ষের তরফে মহেন্দ্রপ্রসাদ বনশাল বলেন, ‘‘কয়েকজন জমির দালাল শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে জমিটি দখল করতে চাইছে। সুকনা থেকে লোকজন এলাকায় ঢুকছেন। বাগানের আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। কাজে বাধা ছাড়াও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হওয়ায় আর বাগানটি চালু রাখা যাচ্ছে না।’’ তিনি জানান, ১৮৬০ সালের এই বাগানটি তাঁরা ১৬ বছর ধরে চালাচ্ছেন। এ ছাড়াও ডুয়ার্সের মোগলতাটা, রহিমপুর চা বাগানও দীর্ঘদিন ধরে চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, ‘‘নতুন বাগান হলে তো ওই শ্রমিকেরা বা তাদের পরিবারই কাজ করবেন। জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’’
এ দিকে এ দিন বিকেলে মালিকপক্ষ তাদের চাষের জমি দখল করতে চাইছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলে রিলে অনশন শুরু করেছেন বাগানের মলিভিটা সেকশনের শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোচার্র নেতৃত্ব। বাগানে এখনও জিএনএলএফের চা শ্রমিক সংগঠন সবচেয়ে বড়। সংগঠনের সম্পাদক কল্যাণ বাগদাস বলেন, ‘‘মোর্চা নেত্রী ছিরিং দাহালের জন্যই এই পরিস্থিতি। তিনি শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালিত করছেন।’’ কল্যাণবাবু জানান, শ্রমিকরা এক সময় দখলি জমিটিতে চাষ করতেন। এখন করেন না। মালিকের নিজের জমি হলেও ওই পরিবারগুলির একজনকে চাকরি দেওয়ার কথায় রাজি ছিলেন। আসলে ওঁরা জমিটি দখল করে বিক্রির চক্রান্ত চলছে।
অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মোর্চার তরাই-এর মুখ্য আহ্বায়ক ছিরিং দাহাল। তাঁর কখায়, ‘‘পরিবারগুলি ২০১৫ সালেও চাষাবাদ করেছে। মালিকের নামে জমি রেকর্ড হলেও ওঁরা জমির সত্ত্বাধিকারী। এভাবে ওঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না। আমি ওঁদের পাশে থাকায় মিথ্যা বদনাম করা হচ্ছে।’’
শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের ৫২৯ হেক্টরের এই বাগানটিতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ১৩০০ শ্রমিক রয়েছে। বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়। বাগানের কর্মী রবীন্দ্রনাথ মাহাতো, সৌরভ বর্মন বা শ্রমিক বুধিয়া লাকড়া, নেহেরু ওঁরাও জানান, ১৫ দিনের মজুরি বুধবারই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি।