TMC

‘খেলা হবে’ বিতর্ক

এই এলাকাটি নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের খাসতালুক।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৫:০৯
Share:

ঘোগারকুটিতে বিজেপি কার্যালয়ে সেই পোস্টার। নিজস্ব চিত্র।

এক পোস্টারে নতুন করে হইচই পড়ে গেল তুফানগঞ্জ থানার ঘোগারকুটি এলাকায়। ঘোগারকুটিতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে কে বা কারা পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। তাতে লেখা— খেলা হবে, রক্ত বন্যা বইবে। শুক্রবার সকালে বিজেপি কর্মীদের নজরে আসে পোস্টারটি। বিজেপির তরফে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বিজেপির অভিযোগ, এটা তৃণমূলের কাজ। যদিও তৃণমূল বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

Advertisement

এই এলাকাটি নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের খাসতালুক। সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, খেলা হবে, বাজবে ডিজে। এ দিন বিজেপি দাবি করেছে, তাঁর সেই কথার পরে উৎসাহী হয়েই এমন পোস্টার সাঁটিয়েছে তাঁর দলের লোকেরা। বিজেপির নাটাবাড়ি বিধানসভার বিজেপির সহ-আহ্বায়ক চিরঞ্জিৎ দাস বলেন, ‘‘আমাদের কার্যালয়ে পোস্টার সেঁটেছে তৃণমূল। কী খেলতে চায়, জানি না। আমরা সব খেলা খেলতে প্রস্তুত।’’

তিনি হুমকির সুরে বলেন, ‘‘তৃণমূল যতটা অত্যাচার সহ্য করতে পারে ততটাই যেন করে। কারণ নির্বাচনের পর আমরাই ক্ষমতায় আসব। তখন বদলা ও বদলও হবে।’’

Advertisement

এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, আগের দিন মন্ত্রী স্পষ্টই বলে দিয়েছিলেন, ‘খেলা হবে’ বলতে জয়ের পরে উৎসবের কথা বলেছেন তিনি। চিলাখানা ২ অঞ্চল তৃণমূল যুব সভাপতি বাসুদেব রায়ের জবাব, ‘‘আমরা কেন বিজেপির কার্যালয়ে যাব? এটা ওদের গোষ্ঠী কোন্দলের ফল।’’

বক্সিরহাট থানার ভানুকুমারি-২ এলাকায় বিজেপির বেশ কিছু পতাকা মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ‘‘এই ঘটনায় তৃণমূল জড়িত না।’’

তবে ভোটের আগে যে ভাবে তপ্ত হয়ে উঠছে তুফানগঞ্জ, তাতে চিন্তিত এলাকার মানুষ। অনেকেই বলছেন, জানুয়ারি থেকে পরপর গোলমাল হচ্ছে এই অঞ্চলে। কখনও তা শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল, কখনও দুই যুযুধান দলের মধ্যে সংঘর্ষ। যেটাই হোক না কেন, তাতে সমস্যায় পড়ছেন এলাকার মানুষ। এর ফলে দুই দলেরই দলীয় কর্মীর প্রাণ গিয়েছে। জখমও হয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, ভোট যত এগিয়ে আসবে, গোলমাল তত বাড়বে। তাঁরা চান, হয় পুলিশ, নয়তো ভোটের জন্য মোতায়েন আধা সেনা দ্রুত ব্যবস্থা নিক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement