নতুন চেয়ারম্যান অনন্ত দেব অধিকারীকে ফুল দিয়ে সম্মান জানালেন তুহিনকান্তি চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।
দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্য দিয়েই ময়নাগুড়ি পুরসভার শপথ অনুষ্ঠান হল। প্রকাশ্যেই তৃণমূলের জেলা সভাপতি মহুয়া গোপের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখালেন পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মাধ্যক্ষ।
বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান পদে অনন্ত দেব অধিকারীর নাম ঘোষণা হতেই ময়নাগুড়িতে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ দেখা দিতে শুরু করে। দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান নির্বাচিত কাউন্সিলরদের অনেকেই। সামাজিক মাধ্যমেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক কাউন্সিলরের কথায়, ‘‘সাংসদ থেকে প্রধান সবেতেই সংরক্ষণ মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণদের অন্তত একটা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।’’
দলের মহিলা কাউন্সিলরদের মধ্যেও চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। কেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোনও মহিলার নাম ঘোষণা হল না, প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার সকাল ন'টা নাগাদ অনন্ত দেব অধিকারী দলের নির্দেশে ধূতি ও হলুদ পাঞ্জাবী পরে দলীয় কার্যালয়ে এসে পৌঁছন। একে একে অন্য কাউন্সিলরেরা এসে পৌঁছলেও ব্যতিক্রম শুধুত্র ব্লক সভাপতি তথা ভাইস চেয়ারম্যান মনোজ রায়। পৌনে এগারোটা নাগাদ মনোজকে ছাড়াই দলীয় কার্যালয় থেকে ময়নামাতা কালী মন্দিরের উদ্দেশ্যে মিছিল করে রওনা হন অনন্ত। উল্টো দিক থেকে মনোজ রায় তাঁর অনুগামীদের নিয়ে মিছিল করে আসেন। মন্দিরে পুজো দিয়ে ময়নাগুড়ির দুর্গা মণ্ডপের মাঠে শপথ বাক্য পাঠ শুরু হয়। মনোজ যখন শপথ বাক্য পাঠ করছেন, তাঁর অনুগামীরা ‘মনোজ রায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলেন। মনোজের শপথ শেষ হতেই ফের স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠান স্থল ছেড়ে বাইরে চলে যান অনুগামীরা। প্রকাশ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। সুনীল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অনন্ত দেব অধিকারী দু'বার বিধায়ক ছিলেন। মানুষের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছেন। তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।’’
মনোজ বলেন, ‘‘দলীয় সিদ্ধান্তই শেষ কথা।’’ অনন্ত দেব অধিকারী বলেন, ‘‘দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা যথাযথ ভাবে পালন করব।’’ অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চ থেকে নামতেই জেলা সভাপতি মহুয়া গোপের সামনে এসে প্রকাশ্যেই বিক্ষোভ দেখান ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ অজয় মল্লিক। অজয় বলেন, ‘‘আমন্ত্রণ জানানো হলেও মঞ্চে ডাকা হয়নি। কেন অসম্মান করা হলো তাই জানতে চেয়েছি।’’
মহুয়া গোপ বলেন, ‘ওই কর্মাধ্যক্ষের আচরণ নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা করা হবে। যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাঁরা দলীয় কর্মী নাকি, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’