ত্রয়ী: জেলা বিজেপি কার্যালয়ে রবিবার বৈঠকে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী ও সাংসদ জয়ন্ত রায়। নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। নিজেদের ‘ভুল’ বুঝতে পেরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরছেন অনেকেই। বিজেপিতে আসা এই কর্মীরা চলে যেতে চাইলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ারই নির্দেশ দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। জলপাইগুড়ি জেলা নেতৃত্বকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।
রবিবার দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনায় বসেন রাজ্য সভাপতি। বৈঠকে তাঁর নিদান, দলের পুরনো কর্মীদের দলে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। তরতাজা তরুণ প্রজন্মের কর্মীদের দলে আনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি, দলের অন্দরের ক্ষোভ বা বিক্ষোভ দলীয় স্তরে বসেই মেটাতে বলেছেন তিনি। প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খোলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্য সভাপতির সামনেই এ দিন একাংশ পুরনো নেতা-কর্মীরা দলে যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এক নেতার কথায়, ‘‘দলীয় সভায় যোগ দিয়ে বসার জন্য চেয়ারও পাই না আমরা।’’ যদিও এ সব নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি দলীয় নেতৃত্ব।
সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘বাবুলের গাওয়া গান ‘এই তৃণমূল আর না...’ দলের পক্ষ থেকে বাজানো হবে। মানুষ যা বোঝার বুঝে নেবে।’’ দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘চলতি মাসের শেষে দলের মণ্ডল কমিটি গঠন করা হবে। দলীয় কর্মপদ্ধতি মেনেই দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’’
জলপাইগুড়িতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে সভাপতি এ দিন স্থানীয় ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার আবেদন জানিয়েছেন। দলের ঐক্য মজবুত করে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বিযয় নিয়ে আন্দোলন গড়াটাই এই সময়ের জরুরি কাজ বলে দাবি তাঁর।
দলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, ‘‘রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে।’’