ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
ছুটি নিয়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর দেখভালের জন্য বাড়ি ফিরছিলেন ভারতীয় সেনা। কিন্তু পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। সেনার মৃত্যুর আট ঘণ্টা পরেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তাঁর স্ত্রী। স্বামীকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য হাসপাতাল থেকে স্ট্রেচারে শুয়েই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে আসেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে আসেন সদ্যোজাতকেও। স্বামীর দেহ দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘নেহরা জি’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক ভারতীয় সেনার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে ভিড় জমিয়েছেন গ্রামবাসীরা। সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়। এক সদ্যোজাতকে নিয়ে সেনার মৃতদেহের দিকে এগিয়ে যান এক মহিলা।
স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা অবস্থায় এক তরুণীকেও মৃতদেহের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকালে এই ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের সাতারার দারে গ্রামে ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই ভারতীয় সেনার নাম প্রমোদ পরশুরাম যাদব। দারে গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। সেকেন্দ্রাবাদ-শ্রীনগর সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন প্রমোদ। তাঁর স্ত্রী ছিলেন সন্তানসম্ভবা। স্ত্রী এবং সদ্যোজাতের দেখভালের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন প্রমোদ।
যাতায়াতের পথে টেম্পোর সঙ্গে বাইকের ধাক্কা লাগে প্রমোদের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। গ্রামে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হলে সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের তরফে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করা হয়। শরীর দুর্বল থাকলেও হাসপাতাল থেকে স্ট্রেচারে শুয়ে সেখানে পৌঁছোন প্রমোদের স্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন সদ্যোজাত কন্যাও। স্বামীকে শেষ বারের মতো দেখে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন প্রমোদের স্ত্রী। ভিডিয়োটি দেখে এক নেটাগরিক মনখারাপ করে লিখেছেন, ‘‘ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! সন্তানকে চোখের দেখাও দেখতে পেলেন না। ভিডিয়োটি দেখে খুব মনখারাপ করছে।’’