প্রয়াত জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী-অভিনেতা প্রশান্ত তামাং। রবিবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
অরুণাচল প্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠান শেষ করে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। তাঁর কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। প্রশান্তের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদনজগৎ।
নেপালি গায়ক প্রশান্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত এবং জাতীয়স্তরের জনপ্রিয় শিল্পী প্রশান্ত তামাঙের আকস্মিক এবং অকালমৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি দার্জিলিঙের ভূমিপুত্র। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল তাঁর। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে তিনি খুব প্রিয়। ওঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
১৯৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে দার্জিলিঙে জন্ম প্রশান্তের। বাবা-মা এবং দিদিকে নিয়ে সেখানেই থাকতেন তিনি। দার্জিলিঙের একটি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন প্রশান্ত।
প্রশান্তের যখন মাত্র ১০ বছর বয়স, তখন তাঁর বাবা মারা গিয়েছিলেন। কলকাতা পুলিশে কর্মরত ছিলেন প্রশান্তের বাবা। তাঁর বাবার মৃত্যুর পর সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব গিয়ে পড়েছিল প্রশান্তের মায়ের কাঁধে। সংসারের খরচ চালানোর জন্য ছোট মুদির দোকান চালাতেন তাঁর মা।
বাবার চাকরি পেয়ে কলকাতা পুলিশে কনস্টেবল পদে কাজ করতে শুরু করেছিলেন প্রশান্ত। কলকাতা পুলিশের অর্কেস্ট্রার দলে গানবাজনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
সঙ্গীতে কোনও প্রশিক্ষণ না নিলেও প্রশান্তের গলায় সুর ছিল। প্রশান্তের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন তাঁর সহকর্মীরা। সকলেই তাঁকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করেছিলেন।
সহকর্মীদের অনুরোধেই ২০০৭ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ নামে গানের একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন প্রশান্ত। অডিশনে উত্তীর্ণ হওয়ার পর একের পর এক পর্ব জিততে শুরু করেছিলেন তিনি।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছোনোর পর প্রশান্তকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পর সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়েছিলেন তিনি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করার ডাক পেতে শুরু করেছিলেন প্রশান্ত।
মঞ্চে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাধিক নেপালি ছবিতে গানও গেয়েছিলেন প্রশান্ত। ২০০৭ সালে ‘ধন্যবাদ’ নামের নেপালি গানের অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছিল তাঁর। দু’বছর পর গানের পাশাপাশি অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন তিনি।
‘গোর্খা পল্টন’, ‘কিনা মায়া মা’, ‘নিশানি’, ‘পরদেশি’ নামের একাধিক নেপালি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল প্রশান্তকে। ‘অম্বর ধারা’ নামের এক হিন্দি ধারাবাহিকেও অতিথিশিল্পী হিসাবে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গীতা থাপা নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন প্রশান্ত। পেশায় বিমানকর্মী গীতা। স্ত্রী এবং কন্যাকে নিয়ে সংসার ছিল প্রশান্তের।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ওটিটির পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল ‘পাতাল লোক’ ওয়েব সিরিজ়ের দ্বিতীয় সিজ়ন। এই সিজ়নে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল প্রশান্তকে। ‘পাতাল লোক ২’ সিরিজ়ে স্নাইপারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রশান্ত।
চলতি বছরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ নামের একটি হিন্দি ছবির। সলমন খান অভিনীত এই ছবিটির ‘পোস্ট প্রোডাকশন’-এর কাজ চলছে। এই ছবিতেই শেষ অভিনয় দেখা যাবে তাঁর।