ত্রিতীর্থের ৪৭ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান বালুরঘাটে। ছবি: অমিত মোহান্ত।
পাড়া থেকে বাঁশ, কাঠ, টিন জোগাড় করে মঞ্চ তৈরি করেছিলেন। এলাকার হাতে গোনা কয়েক জন নাট্যপ্রেমী যুবককে নিয়েই পথচলা শুরু হয়।
একে একে ভাঙাপট, দেবাংশী, দেবীগর্জন, জল, গ্যালিলিও, বিছন, অসমপিকা, তিন বিজ্ঞানীর মতো বহু জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়ে টানা ৪৭ বছর পার করে এল বালুরঘাটের সেই নাট্যমঞ্চ ত্রিতীর্থ। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁর নিজে হাতে গড়া এই সন্তানকে স্বমহিমায় দাঁড় করিয়ে রেখেছেন নাট্যপরিচালক হরিমাধব মুখোপাধ্যায়।
ইন্টারনেট, মোবাইলের যুগে নাটক দেখার মতো দর্শকের অভাব ক্রমশ বেড়েছে। নাটকের পালা নামাতে গিয়েও বারবার তৈরি হয়েছে নানা রকম আর্থিক সমস্যা। তার পরেও এত বছরের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কৃতিত্বের সাক্ষর শুক্রবার তুলে ধরল হরিমাধববাবুর ত্রিতীর্থ নাট্যসংস্থা।
শুক্রবার সন্ধেয় শহরের চকভবানী এলাকায় ত্রিতীর্থের নিজস্ব মঞ্চ গোবিন্দাঙ্গনে পালিত হল ৪৭তম বর্ষপূর্তি উৎসব। প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রবীণ নাট্যাভিনেতা নির্মলেন্দু তালুকদার। ত্রিতীর্থের বহু নাটকের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ অভিনেত্রী বন্দনা মজুমদারকে সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সব শেষে হরিমাধববাবুর লেখা হাসির মোড়কে উপভোগ্য একটি নাটক ‘নিকট গঙ্গা’ মঞ্চস্থ হয়।
বালুরঘাট শহরে এই মুহূর্তে নিয়মিত নাটক করে চলেছে ত্রিতীর্থ। তা ছাড়া নাট্যমন্দির, নাট্যতীর্থ, সমবেত নাট্যকর্মী, শপথ, সমমন, তূণীর সংস্থাগুলিও নাটক মঞ্চস্থ করে। পুজোর মরসুমকে সামনে রেখে এ বারেও শহরে নাটকচর্চা ও নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। প্রবীণ নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হরিমাধববাবু অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, ‘‘দর্শকেরা এখন যেমন টিকিট কেটে সিনেমা দেখেন, আমরা যখন নাটক শুরু করেছিলাম, তখন তেমনই টিকিট কেটে দর্শকেরা নাটক দেখতেন। এখন নাটকের দর্শক কমেছে। দর্শকশূন্য মঞ্চে নতুন নাটক দু’তিন দিনের বেশি চলছে না। তাই আমরা প্রত্যেকেই এখন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে গিয়েছি।’’