নাগরাকাটায় রেললাইনের ধারে পড়ে থাকা বস্তা উদ্ধার

চলন্ত মালগাড়ির ওয়াগন ভেঙে লুঠ

wagonচলতে থাকা মালগাড়ির ওয়াগন ভেঙে লুঠের অভিযোগ উঠল। শুক্রবার সকালে নাগরাকাটা এলাকায় রেললাইনের পাশে বড় বড় বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। বস্তাগুলিতে টিভি সেট-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বস্তাগুলি পরীক্ষা করে দেখে। প্রতিটি বস্তায় রেলের ছাপ দেখে রেল পুলিশকে খবর পাঠায় নাগরাকাটা থানা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:৪২
Share:

উদ্ধার হওয়া এই বস্তাতেই রয়েছে টিভি-সহ নানা ইলেকট্রনিক সামগ্রী। নিজস্ব চিত্র।

চলতে থাকা মালগাড়ির ওয়াগন ভেঙে লুঠের অভিযোগ উঠল। শুক্রবার সকালে নাগরাকাটা এলাকায় রেললাইনের পাশে বড় বড় বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। বস্তাগুলিতে টিভি সেট-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বস্তাগুলি পরীক্ষা করে দেখে। প্রতিটি বস্তায় রেলের ছাপ দেখে রেল পুলিশকে খবর পাঠায় নাগরাকাটা থানা।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তের পরে জানা যায় নিউ গুয়াহাটিগামী একটি মালগাড়ির রেকের তালা ভেঙে মালপত্র লুঠ করা হয়েছে। রেল পুলিশের অনুমান অন্ধকারে দেখতে না পেয়ে কয়েকটি বস্তা দুষ্কৃতীরা ফেলে যায়। সেগুলিই নাগরাকাটা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনের ওয়াগান ভাঙা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে রেল পুলিশের তদন্তকারীরা মনে করছেন। বিভিন্ন স্টেশনে ওয়াগানে পণ্য ঢোকানো-বের করা হয়। সে সময় দুষ্কৃতীদের কেউ আগে থেকে ওয়াগনের ভিতরে ঢুকে ছিলেন কি না সে প্রশ্নও উঠেছে। আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশনের এডিআরএম রাজকুমার মাকওয়ানা বলেন, ‘‘চুরির ঘটনা বলেই প্রাথমিক ভাবে আমরা মনে করছি। টেলিভিশন সেট, মহিলাদের পোশাক ও স্কুল ব্যাগ বোঝাই বস্তা আমরা উদ্ধার করেছি। আরপিএফ এবং রেল পুলিশ তদন্ত করছে। আশা করছি দ্রুত ঘটনাটির কিনারা হবে।’’

প্রাথমিক তদন্তে রেল জেনেছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ মালগাড়িটি নাগরাকাটা পেরিয়েছে। শুক্রবার ভোরে নাগরাকাটা বস্তি লাগোয়া জলঢাকা রেলসেতুর কাছে রেলের ৭২ থেকে ৭৩ নম্বর স্তম্ভের মাঝে বেশ কিছু মালবোঝাই চট ও সাদা প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই খবর যায় নাগরাকাটা থানার কাছে। ডুয়ার্স রুট ধরে বেশকিছু মালগাড়িই গভীর রাতে চলাচল করে। ঠিক কোন মালগাড়ি থেকে ঘটনাটি ঘটেছে তা বুঝতে বেগ পেতে হয় রেল পুলিশকে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল অবধি ডুয়ার্সের কোনও স্টেশনেই মালগাড়ির চালক বা গার্ডের তরফে কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। পরে রেলপুলিশ জানতে পারে নিউ গুয়াহাটিগামী একটি মালগাড়ি বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ এই এলাকা দিয়ে গেছে। সেই ট্রেনটির থেকেই মালপত্র চুরি হয়েছে বলে অনুমান। চাপড়ামারির গভীর জঙ্গল লাগোয়া এই এলাকাতে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে ট্রেনের গতি খুবই কম থাকে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় নিস্তব্ধতাও বেশি ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ট্রেনের দরজার তালা ভেঙে মাল বাইরে ছুড়ে লুঠ করা হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।

Advertisement

ট্রেনটি জঙ্গলের পথ থেকে জলঢাকা রেলসেতু পেরিয়ে ৫০ মিটার দূরে একটি ছোট ঝোরার সেতুতে উঠতেই ট্রেনের ওয়াগন ভেঙে মাল বাইরে ছুড়ে ফেলা হতে থাকে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। শুক্রবার ভোরে নাগরাকাটা থানার পুলিশ স্থানীয় সূত্রে রেললাইনের ধারে মালগাড়ির মাল পড়ে থাকার খবর পায়। এরপরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২টি কাপড় বোঝাই বস্তা এবং ১৯টি প্যাকিং করা ছোট টেলিভিশন সেট উদ্ধার করে। নাগরাকাটাতে ঘটনার তদন্তে আসেন রেলপুলিশের নিউ মাল এলাকার ইন্সপেক্টর রাজেশকুমার সিংহ। পুলিশের উদ্ধার করা মাল রেলপুলিশ তাদের নিজেদের দখলেও নিয়ে নেয়। তবে পুলিশ যে মালপত্র উদ্ধার করেছে তা মালগাড়ি থেকে চুরি হওয়া মালের একটি অল্প অংশই বলে মনে করছে রেল পুলিশ। মোট কত মালপত্র চুরি হয়ে থাকতে পারে তার আন্দাজ পেতে নিউ গুয়াহাটিগামী যে মালগাড়িটির থেকে চুরির ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে সেই মালগাড়ির যাবতীয় মালপত্রের পরিমাণ খতিয়ে দেখার জন্যে নিউ গুয়াহাটির রেলপুলিশকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলন্ত মালগাড়ির তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ডুয়ার্সের রুটে এই প্রথমবার ঘটল। যে এলাকায় মালপত্রের বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায় সেই নাগরাকাটা বস্তি বা লাগোয়া এলাকার কেউ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ রেল পুলিশের। বৃষ্টির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চুরি করা স্থানীয় কোন দুষ্কৃতীর মদত না থাকলে সম্ভব নয় বলেই মনে করছে পুলিশ। বড় কোন চক্র এই এলাকার মালগাড়ির গতিবিধির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজর রেখেই এই কাজ হাসিল করে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ পুলিশের একাংশের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement