ঘোষণা: (উপরে) সাঁইথিয়া ও (নীচে) বোলপুরে। নিজস্ব চিত্র।
কোথাও প্রচার করে, কোথাও শপথ নিয়ে। নানা পন্থায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার যেন ঢল নেমেছে বীরভূমে!
লাভপুরের পরে এ বার বোলপুরেও তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে মাইকিং করে ক্ষমা চাইলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। শুক্রবার সন্ধ্যার ঘটনা। অন্য দিকে, শনিবার শপথবাক্য পাঠ করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সাঁইথিয়ার বনগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক। বিজেপি-র দাবি, তাদের কর্মীদের ‘চাপ’ দিয়ে এই কাণ্ড ঘটনা হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন।
শুক্রবার বোলপুর পুরসভা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শুড়িপাড়ার জনা পঞ্চাশেক বিজেপি কর্মী-সমর্থক একটি টোটোয় বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে মাইকিং করে প্রচার করতে থাকেন এই বলে যে, বিজেপি করা তাঁদের অন্যায় হয়েছে। বিজেপি করে তাঁরা কোনও সুযোদ-সুবিধা পাননি, বিজেপি ভাঁওতাবাজির দল। তাই তাঁরা কেউ বিজেপি করবেন না। একই সঙ্গে ওই কর্মীরা জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ধ্বনি দিতে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ক’দিন আগে লাভপুরের বিপ্রটিকুরি এলাকায় ঠিক একই ভাবে টোটোয় তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে বিজেপি করার জন্য ক্ষমা চান গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা।
এ বার বোলপুরেও একই ঘটনা ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। শুক্রবারের প্রচারে থাকা বিজেপি সমর্থক মুকুল মণ্ডল বলেন, ‘‘১০ বছর ধরে আমরা বিজেপি করছি। তার আগে তৃণমূল করতাম। কিন্তু, বিজেপি থেকে কোনও সুযোগ সুবিধা পাইনি। বিধানসভা নির্বাচনে পরে যে সমস্ত বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া রয়েছেন, তাঁদেরকে ফেরানোর ব্যাপারেও দল উদ্যোগী হয়নি। অথচ তৃণমূলের তরফে অসহায় বিজেপি কর্মীদের আজ ঘরে ফেরানো হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, তাই তাঁরা ঠিক করেছেন, আর বিজেপি করবেন না, তৃণমূলে যোগদান করবেন। মুকুলের কথায়, ‘‘নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেই এই প্রচারে শামিল হয়েছি।’’
তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, ‘‘বিজেপি দল করে ওঁরা কিছুই পাননি। তাই নিজেদের ভুল স্বীকার করে তৃণমূলে ফিরতে চান। এই বিষয় আমরা জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে যাতে খুব তাড়াতাড়ি ওঁদের দলে ফেরানোর যায়, সেই ব্যবস্থা করব।’’
গত বুধবার নানুরে তৃণমূলের বাসাপাড়া পার্টি অফিসে ‘বিজেপি করা ভুল হয়েছিল, আমৃত্যু তৃণমূলে থাকব’ জাতীয় শপথবাক্য পাঠ করে বিজেপি-র এক রাজ্য কমিটির সদস্য-সহ বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগ দেন। শনিবার তৃণমূলের সাঁইথিয়া বড়া পার্টি অফিসে একই ধরনের শপথবাক্য পাঠ করে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তাপস সাহার নেতৃত্ব স্থানীয় বনগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শতাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক শাসকদলে যোগ দেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন পঞ্চায়েত প্রধান তুষার মণ্ডল।
তাপস সাহার দাবি, ‘‘কর্মীদের ইচ্ছানুসারে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে শামিল হতেই তৃণমূলে যোগ দিলাম।’’ তুষারবাবু বলেন, ‘‘তাপসবাবুদের যথাযথ মর্যাদার সঙ্গেই উন্নয়নের কাজে শামিল করা হবে।’’ অন্য দিকে, এ দিনই লাভপুরের গোপডিহি গ্রামের শতাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক তাঁদের দলে যোগ দেন বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। লাভপুর পার্টি অফিসে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন এলাকার বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী প্রমুখ।
বিজেপি জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘‘তৃণমূল ভয় দেখিয়ে এই ধরনের প্রচার করাতে বাধ্য করছে। প্রাণের ভয়েই আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা আজ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যেতে চাইছে।’’ অভিযোগ মানেনি তৃণমূল।