ফাইল চিত্র।
তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এক দশক কেটে গিয়েছে। বহুবার সরকারি এবং দলের কর্মসূচিতে এসেছেন নেত্রী। ডাক দিয়েছেন বদলের। তাও হাতের বাইরেই রয়ে গিয়েছে শিলিগুড়ি। পুরসভা থেকে মহকুমা পরিষদ, লোকসভা থেকে বিধানসভা— কোনও একটিও হাতে আসেনি। সব থেকেছে বাম এবং কংগ্রেসের ঘরে।
আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাই আরও একবার জোর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নামতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এ বার নতুন সংযোজন, সঙ্গে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে) এবং তাঁর দল।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ, সোমবার বিকেলে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত কিশোর শিলিগুড়ি পৌঁছে সন্ধেয় বসবেন শহরের নেতৃত্বের সঙ্গে। কয়েক মাস আগে অভিষেক ও পিকে শিলিগুড়ি এলেও সে-বার শিলিগুড়ি নিয়ে পুরো আলোচনা হয়নি। বিজেপির দ্রুত গতিকে রুখতে তাই উত্তরবঙ্গের অলিখিত রাজধানী শিলিগুড়ি নিয়েই দুই দফায় বৈঠকের কথা। সোমবারের পর অভিষেক-পিকের কলকাতা ফেরার দিনও আর এক দফায় বৈঠক হওয়ায় কথা। দু’টি বৈঠকই হওয়ার কথা উত্তরকন্যার কন্যাশ্রী বাংলোয়।
শিলিগুড়ির সঙ্গে ডাক পাওয়ার কথা উত্তর দিনাজপুর জেলা নেতৃত্বেরও। সেখানে তৃণমূল দলবদল করে এগোলেও রায়গঞ্জের মতো শহরে খুব ফুল ফোটাতে পারেনি দশ বছরে।
শিলিগুড়িতে অশোক ভট্টাচার্য আর রায়গঞ্জে মোহিত সেনগুপ্ত— এই যুগলকে সামলানোর চেষ্টা ১০ বছরে হয়নি তা নয়। কিন্তু কোনওভাবে পেরে ওঠেনি ঘাসফুল শিবির। সেখানে বিজেপির সক্রিয়তা, বর্তমান দলীয় পরিস্থিতিতে তা কতটা সম্ভব, এ নিয়ে দলের অন্দরেই নানা প্রশ্ন ও বক্তব্য রয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের আশা, পিকে ভোটের আগে নিশ্চয়ই নতুন করে কোনও রণকৌশল তৈরি করবেন বা নতুন করে পথ দেখাবেন, তাতে লড়াই করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে। শিলিগুড়িতে দুটি বৈঠক থেকে সেই বার্তাই থাকবে বলে দলীয় নেতৃত্ব মনে করছেন।
তবে রবিবার রাত অবধি যুব সংগঠনের সদস্য ছাড়া বৈঠকে আর কারা কারা থাকছেন তা পরিষ্কার হয়নি।
দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) রঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘পুরোটাই দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন। বিধানসভা ভোট নিয়েই আলোচনা হবে।
সূত্রের খবর, বিজেপির অতিসক্রিয়তা এবং শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগের পর ঘর সামলানোটাও তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের রণকৌশল ঠিক করার সঙ্গে সঙ্গে ঘর ভাঙাও সামাল দেওয়ার কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে দলের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করতে আসছেন অভিষেক-পিকে। ৮ জানুয়ারি অবধি উত্তরবঙ্গে থাকার কথা তাঁদের। শিলিগুড়ি ছাড়া আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে দলীয় বৈঠক ছাড়া গঙ্গারামপুরে জনসভা করার কথা অভিষেকের। আজ শিলিগুড়ি এসে উত্তরকন্যার কন্যাশ্রীতে দলীয় বৈঠক করবেন। পরদিন বৈঠক আলিপুরদুয়ারে। ৬ জানুয়ারি ডুয়ার্সের চালসায় জলপাইগুড়ি জেলার বৈঠক। ৭ জানুয়ারি গঙ্গারামপুরে জনসভা অভিষেকের। শেষদিন ফের কন্যাশ্রীতে বৈঠকের কথা অভিষেকের।