ফুলেশ্বরী নন্দিনী
সারা বছরের সাহিত্য ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের জন্য শিলিগুড়ির ‘ফুলেশ্বরী নন্দিনী’ বাংলাদেশের ঢাকায় সেরার সম্মান পেল। বাংলাদেশেই ফুলেশ্বরী নন্দিনীর প্রধান দফতর। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৪৭টি শাখা তৈরি হয়ে গিয়েছে সংস্থার। তার মধ্যেই ফি বছর সেরা হিসেবে একটি শাখাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় আর্কাইভ অডিটোরিয়ামে সারা দিন ধরে অনুষ্ঠান হয়। সেখানে শিলিগুড়ির ফুলেশ্বরী নন্দিনীর পক্ষ থেকে সম্পাদক কণিকা দাস, রত্না বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজাতা পাল, শিল্পী পালিত, বেবি কাঞ্জিলাল, নীলরতন কাঞ্জিলাল উপস্থিত থেকে সম্মান গ্রহণ করেন। বিশেষ সাহিত্য সম্মান পান সুজাতা পাল। বাংলাদেশে শুরু হওয়া নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের ধারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীর নাম যুক্ত করে শাখা সংগঠন তৈরি হয়। যেমন হয়েছে শিলিগুড়িতে ফুলেশ্বরী নদীর নাম যুক্ত করে ফুলেশ্বরী নন্দিনী।
বইয়ের পৃথিবী
৮ বছর ধরে পড়ুয়াদের বিদ্যাচর্চায় আসক্ত করছেন। তিনি বারবার বলেছেন, ‘পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বইয়ের যে বিরাট পৃথিবী, তার বাসিন্দা হও’। তিনি অর্থাৎ মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস। দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করেছেন জলপাইগুড়ির রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়ে। তাঁর উৎসাহে পড়ুয়ারা দেওয়াল পত্রিকা ও বিদ্যালয় পত্রিকা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কোচবিহার সুনীতি অ্যাকাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সেখানে কী ভাবে বিদ্যচর্চায় সামিল করছেন পড়ুয়াদের? কোনও পিরিয়ডে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে মেয়েরা তার ঘরে চলে আসে বই নিতে। নাট্যচর্চাতেও তিনি সমান আগ্রহী। অভিনয়ের শুরু একাদশ শ্রেণিতে। ১৯৮২ ও ১৯৮৬-তে পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর সম্মান। চাকরি ও সংসারজীবনে যুক্ত হবার পর নাট্যচর্চায় ছেদ পড়েছে। সেই সময়ের যন্ত্রণা পরবর্তী সময়ে লাঘব করেছে ছাত্রীরা। তাঁর নির্দেশনায় নাটকে জলপাইগুড়ি রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয় অনেক বার পুরস্কার পেয়েছে। সুনীতি অ্যাকাডেমির ছাত্রীরাও তাঁর নির্দেশনায় নাটকে অভিনয় করেছে। ২০০৭ থেকে ‘নীরজ কোরক’ পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক উপন্যাস, গল্প-সংকলন এবং কাব্যগ্রন্থ। সাহিত্য ও সম্পাদনার জন্য ২০১৫-তে পুরস্কৃত হয়েছেন। নিয়মিত ডায়েরি লেখেন। বাড়িতে পড়াশোনার সময়? ‘কখনও কাজের মাঝে, কখনও লেখা-পড়াতেই রাতভোর।’ ভালবাসেন রবীন্দ্রনাথ, সঙ্গে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমারসেট মম এবং অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য। বিদ্যাচর্চা জরুরি কেন? ‘বই না পড়লে সম্পূর্ণ হওয়া যায় না।’’—সুদীপ দত্ত।
পারমিতার সিডি
কবিতা পড়া ও আর শোনার মধ্যে বিস্তর ফারাক। উপরন্তু, যদি কুশলী বাচিক শিল্পী হন তা হলে তো কবিতা যেন ছবির মতো চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। দুই বাংলার আবৃত্তির দুনিয়ায় রবীন্দ্রনাথের পরেই জীবনানন্দ দাশের কবিতাই বাচিক শিল্পী মহলে তুলনায় বেশি সমাদৃত। উত্তরের বাচিক শিল্পী পারমিতা দাশগুপ্তের ‘সিডি’ ‘বছর কুড়ি পরে’ও সে কথাই বলছে। উত্তরের সংস্কৃতির দুনিয়ায় পরিচিত নাম পারমিতার সিডিতে রয়েছে ‘বনলতা সেন’, ‘ফিরে এসো’, ‘যেন এক দেশলাই’, দুজন, নির্জন স্বাক্ষর (নির্বাচিত অংশ) এবং কুড়ি বছর পরে। পারমিতা একা নন, উত্তরবঙ্গে সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও এক ঝাঁক বাচিক শিল্পী নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। কখনও তা সমাদৃত হচ্ছে। আবার কখনও তাতে কিছুটা ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। পারমিতার নতুন সিডিতে পাঠের গতি মসৃণ। স্বর বৈচিত্র্য ও বিরতির ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্ক হতে হবে। কবিতা পাঠের ক্ষেত্রে বাচিক শিল্পীর অনুভূতির প্রকাশটা একটা প্রধান বিষয়। তা অনেকটাই যথাযথ।
নিম্নবর্গের ইতিহাস
উত্তর পূর্ব ভারতের নিম্নবর্গীয় মানুষের ইতিহাস চর্চা আজকে বড় বেশি প্রসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি উত্তর পূর্ব ভারতের নামনি অসমের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের আত্মিক ও বৌদ্ধিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে নিম্নবর্গীয় মানুষের ইতিহাস চর্চা নিয়ে যে নানা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে তার যুক্তিনিষ্ঠ পর্যালোচনা হওয়া দরকার। ‘সাব অল্টার্ন হিস্ট্রোগ্রাফি অফ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া’ (উত্তর পূর্ব ভারতের নিম্নবর্গীয় ইতিহাস চর্চা) শীর্ষক আলোচনাচক্রে এমনটাই জানালেন মুখ্যবক্তা আনন্দগোপাল ঘোষ। অধ্যক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় স্বাগত বক্তব্যে জানান, উত্ত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশি বলেই বিষয়টি আলোচনার পরিসরে এনেছে। সহবক্তা মাধবচন্দ্র অধিকারী প্রসঙ্গ সূত্রে জানান, উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সংযোগ রয়েছে, সে দিক থেকে এই আলোচনাটি অর্থবহ। পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যলয়ে এ বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করছি। কারণ এগুলি পাঠ্যসূচির অন্তর্গত। তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনাচক্রটি অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর কথা
উত্তর পূর্ব ভারতের নিম্নবর্গীয় মানুষের ইতিহাস চর্চা আজকে বড় বেশি প্রসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি উত্তর পূর্ব ভারতের নামনি অসমের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের আত্মিক ও বৌদ্ধিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে নিম্নবর্গীয় মানুষের ইতিহাস চর্চা নিয়ে যে নানা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে তার যুক্তিনিষ্ঠ পর্যালোচনা হওয়া দরকার। ‘সাব অল্টার্ন হিস্ট্রোগ্রাফি অফ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া’ (উত্তর পূর্ব ভারতের নিম্নবর্গীয় ইতিহাস চর্চা) শীর্ষক আলোচনাচক্রে এমনটাই জানালেন মুখ্যবক্তা আনন্দগোপাল ঘোষ। অধ্যক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় স্বাগত বক্তব্যে জানান, উত্ত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশি বলেই বিষয়টি আলোচনার পরিসরে এনেছে। সহবক্তা মাধবচন্দ্র অধিকারী প্রসঙ্গ সূত্রে জানান, উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সংযোগ রয়েছে, সে দিক থেকে এই আলোচনাটি অর্থবহ। পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যলয়ে এ বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করছি। কারণ এগুলি পাঠ্যসূচির অন্তর্গত। তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনাচক্রটি অনুষ্ঠিত হয়।
নাটকে নববর্ষ
প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীন কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় শতাধিক বছরের পুরনো নববর্ষের নাট্যউৎসব। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্লাবের নিজস্ব নাট্যমঞ্চে দিনভর মঞ্চস্থ হল নাটক। জেলার বারোটি নাট্যদল এবং জলপাইগুড়ির একটি নাট্যগোষ্ঠীর মঞ্চস্থ নাটক দিয়েই আবাহন ঘটল নতুন বছরের। বছর শেষে বসন্ত অনুষ্ঠানে বাংলা গানে কণ্ঠ দেন অপরূপা চৌধুরী, অর্ণব ভট্টাচার্য। শাওন চক্রবর্তী ও ভবানী নাথ চক্রবর্তী। জয়িতা চক্রবর্তীর একক নিবেদনে ছিল আবৃত্তি। ও দিকে কোচবিহারের ইন্দ্রায়ুধ নাট্যগোষ্ঠী বর্ষবরণের সঙ্গে পালন করল সফদর স্মরণ। নাট্যব্যক্তিত্ব দীপায়ন ভট্টাচার্য স্মরণ বাসরে জানান, পথ নাটকের নিরলস সৈনিক সফদর হাসমি তার নাটকে সাম্প্রতিক সমস্যাগুলি বিষয় হিসেবে নির্বাচন করতেন। যা মানুষকে ভাবিত করত এবং তৈরি করতেন প্রতিকারের উদ্যম। দিল্লি ও তার উপকণ্ঠে কল-কারখানার দরজায় তাকে প্রায়ই তার সংস্থা গণনাট্য মঞ্চকে নিয়ে পথ নাটক করতে দেখা যেত। হল্লাবোল, আওরাৎ, অপহরণ, ভাইচারেকা-র মতো নাটক তিনি উপহার দিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও আধুনিক বাংলা গানে নববর্ষকে স্বাগত জানান প্রজ্ঞাময় মজুমদার, অরূপ দত্ত, সমীর গুহ, চঞ্চারিকা ভট্টাচার্য। বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের ছাত্ররা মঞ্চস্থ করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনকথা নির্ভর নাটক ‘মাইলস্টোন’। নির্দেশনা রজত সরকার। ছিল শ্রীপর্ণা সরকার ও নীলাদ্রি দেবের কণ্ঠে আবৃত্তি। নাচেগানে মেতে উঠেছিল কচিকাঁচারাও। রঞ্জন সিংহ ও কিংশুক দের নৃত্যানুষ্ঠান ছিল বর্ষবরণের ডালিতে।
লেখা ও ছবি : অনিতা দত্ত