বাগ়ডোগরায় কৈলাস-মানস সরোবরের যাত্রীদের অভ্যর্থনা। বুধবার।
বুধবার দুপুরে রাতারাতি বদলে গেল বাগডোগরা বিমানবন্দরের ছবিটা। ডুগডুগি আর শাঁখের শব্দে কেঁপে উঠল গোটা বাগডোগরা বিমানবন্দর চত্বর। চমকে উঠলেন যাত্রীদের অনেকেই। অনেকেই ভেবে ফেলেন, কোনও গুরুজি হয়ত ধর্মসভায় যোগ দিতে এসেছেন। এরই মধ্যে গলায় খাদা ও উত্তরীয় পড়া একের পর এক যাত্রী বিমানবন্দরের বাইরে আসতে শুরু করেন।
পুলিশ, সিআইএসএফ ও এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার অফিসারদের ছোটাছুটি দেখে অনেকে এগিয়েও যান খোঁজখবর নিতে। শেষে দুটি বিলাসবহুল বাস কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার ফেস্টুন ঝুলিয়ে এসে দাঁড়াতেই মেটে কৌতুহল। বেলা দুটো নাগাদ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই বাস দুটি রওনা হয়ে যায়, সিকিমের গ্যাংটকের উদ্দেশে। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাংটক থেকে নাথু লা হয়ে চিনের কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার সূচনা হচ্ছে। প্রথম দফায় সামিল হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের বাছাই করা ৪০ জন পর্যটক।
এর পরে আরও চারটি দল দফায় দফায় সিকিমে এসে পৌঁছবে। প্রতিটি দলে ৫০ জন করে সদস্য থাকার কথা রয়েছে। এ দিন পর্যটক দলের সঙ্গে সিকিম সরকারের পক্ষে ছিলেন সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রূপনারায়ণ রাই। তিনি বলেন, ‘‘নাথু লা দিয়ে কৈলাশ যাত্রা শুরু হওয়ায় সিকিম পর্যটনের আরও বিকাশ ঘটবে। বিভিন্ন প্রান্তের আরও মানুষ সিকিমে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী। সিকিমের জন্য এটা ঐতিহাসিক মূহূর্ত।’’
পূর্ব সিকিমের জেলাশাসক প্রভাকর বর্মা বলেন, ‘‘আমরা প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখছি না। আমাদের প্রশিক্ষিত লোকজনও পর্যটকদের সঙ্গে থাকবে।’’ গত বছর চিনের সঙ্গে সমঝোতার পরেই কৈলাস যাত্রার জন্য নাথু লা রুট খুলেছে। উত্তরখন্ডের কষ্টকর যাত্রার থেকে এই রুট অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে বলে সরকারি সূত্রে খবর। প্রথম দলে রয়েছেন তিন বাঙালিও। তাঁদের মধ্যে দু’জন ভিনরাজ্যের। এক মহিলা পর্যটক অবশ্য এ রাজ্যেরই বর্ধমান জেলার বাসিন্দা।
অশ্বিনীকুমার ঘোষ উত্তরাখণ্ডের হৃষিকেশ এবং কমলকৃষ্ণ চৌধুরী ত্রিপুরা থেকে এসেছেন। অশ্বিনীবাবু বলেন, ‘‘বয়স হয়েছে। উত্তরাখন্ডের রাস্তার ধকল অনেক বেশি। তাই নিজেদের এলাকা ছেড়ে এই রুটে যাওয়ার জন্য আবেদন করি।’’ বর্ধমানের ভাতারের শালকুনির বাসিন্দা শোভারানি ঘোষ বিমানবন্দরে নেমেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘‘খুবই আনন্দ হচ্ছে। এই সরকারি ব্যবস্থায় আমি অভিভূত।’’
ধীরে ধীরে আবহাওয়া ও উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নাথু লা, শেরাথাং হয়ে দলটি ২৬ জুন মানস সরোবর পৌঁছাবে। কৈলাসে পৌঁছবে ২৮ জুন। ফেরার সময় ফের একই রুটে দলটি গ্যাংটক, বাগডোগরা হয়ে দিল্লি পৌঁছাবে ৫ জুলাই।
বিশ্বরূপ বসাকের তোলা ছবি।