চলছে আড্ডা। — নিজস্ব চিত্র
তিন দশক বাদে কলেজে এসে এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন নাজিবর রহমান। তিনি ছিলেন চাঁচল কলেজের ইংরেজি অনার্সের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। এখন জেলারই কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ তিনি। একবার ছুটলেন কলেজের পিছনে আমবাগানে। যা ছিল একসময় পড়ুয়াদের আড্ডা দেওয়ার জায়গা। আজ সেই বাগান জঙ্গলে ভরেছে দেখে মন ভার হয়ে গেল তাঁর। গোটা কলেজ ঘুরে ঘুরে খুঁজে ফিরলেন পুরনো স্মৃতি। তখন কে বলবে তিনি এখন অধ্যক্ষ! নিজের ইংরেজি অনার্সের ক্লাসঘর দেখে একবার বসেও পড়লেন।
শুধু নাজিবর নন। তাঁর সঙ্গে এ দিন ছিলেন সামসি এগ্রিল হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক শৈলেশ পান্ডে, সামসি সীতাদেবী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মধুমিতা সরকার, সাংবাদিক মোশারফ হোসেন থেকে শুরু করে বিদ্যানন্দপুরের প্রধান শিক্ষক মহসিন আলিও। তাঁরা সবাই এই কলেজের প্রাক্তনী। সকলেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন পুরনো কলেজে এসে। স্মৃতি খুঁজে বেড়ানোর সঙ্গেই জমে উঠল আড্ডা। শুক্রবার কলেজের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসে কলেজের প্রাক্তন কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল চাঁচল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সব কাজ ফেলে কলেজে হাজির হন প্রাক্তনীরা। এ ভাবেই তাঁদের স্মৃতিচারণা, আড্ডায় জমে উঠল কলেজ চত্বর।
শুক্রবার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ-সহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দু’বছর বাদেই কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উত্সব। তাই এ বার প্রতিষ্ঠা দিবস পালণে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা কলেজের প্রশাসক বিকাশ রায়। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনিল ভুঁইমালি, রেজিষ্ট্রার পঙ্কজ কুন্ডু, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ সমূহের পরিদর্শক অপূর্ব চক্রবর্তী-সহ অনেকে।