মালদহে ফের আক্রান্ত ব্যবসায়ী

খাবারের দাম চাওয়ায় ধাবার মালিককে কোপাল দুষ্কৃতীরা

ফের মালদহে আক্রান্ত হলেন এক ব্যবসায়ী। খাওয়ার বকেয়া বিল চাওয়ায় ধাবার মালিককে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার মধুঘাট সংলগ্ন এলাকায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৫৪
Share:

ফের মালদহে আক্রান্ত হলেন এক ব্যবসায়ী। খাওয়ার বকেয়া বিল চাওয়ায় ধাবার মালিককে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার মধুঘাট সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যবসায়ী ভর্তি রয়েছেন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রাতেই পরিবারের তরফে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আহতের নাম বাবলু ঘোষ। তিনি ইংরেজবাজারের মধুঘাটের বেসপুর গ্রামের বাসিন্দা।

Advertisement

জাতীয় সড়কের ধারে ধাবাতে এমন ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অন্য ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের টহলদারির অভাবে এমন ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সন্ধের পর ধাবা এবং হোটেল খুলে রাখতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্য দিনের পর দিন আক্রান্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পরিবারের লোকেদের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। টহলদারি চালানো হয়। প্রয়োজনে টহলদারি আরও বাড়ানো হবে।’’

মাসখানেক আগে ইংরেজবাজার শহরের রাজমোহল রোড সংলগ্ন এলাকায় এক কসমেটিক ব্যবসায়ী এবং তাঁর ভাইকে গুলি করে সবকিছু ছিনতাই করে পালায় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার তিনদিন পরে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনা ছাড়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ইংরেজবাজারের রবীন্দ্রভবন এলাকায় একাধিক ব্যক্তিকে মারধর করে লুঠপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। থানাতে অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই থানা এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে মধুঘাটে আক্রান্ত হলেন ধাবার মালিক বাবলুবাবু।

Advertisement

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক ধরে জাতীয় সড়কের ধারে মধুঘাট এলাকায় ধাবা চালাচ্ছেন বাবলুবাবু। তিনি ইংরেজবাজারের যদুপুর ২ পঞ্চায়েতের বেসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। প্রত্যেকেই প্রাথমিক বিভাগে পড়াশুনা করে। বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ ধাবাতে একাই ছিলেন বাবলুবাবু। সেই সময় মোটর বাইক নিয়ে ধাবাতে আসে দুই যুবক। সেই ধাবাতে দু’জন মিলে খাওয়া দেওয়া করে। বিল হয় ৪০০ টাকা। তবে খাওয়া দেওয়া করেই ওই যুবকেরা মোটরবাইক নিয়ে চলে যেতে উদ্যত হয়। বাবলুবাবু তাদের মোটরবাইক থামিয়ে বকেয়া টাকা মিটিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। যুবকেরা টাকা না দিলে শুরু হয়ে যায় তাদের মধ্যে বচসা। এরপরে হাঁসুয়া দিয়ে বাবলুবাবুকে এলোপাথাড়ি ভাবে কোপাতে থাকে অভিযুক্ত দুই যুবক। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়েরা ছুটে গেলে অভিযুক্তেরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় বাবলুবাবুকে ভর্তি করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তাঁর মাথায়, পিঠে, ঘারে হাঁসুয়ার আঘাত রয়েছে। রাতেই বাবলুবাবুর স্ত্রী বেলা ঘোষ ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি ঠিক মতো কথা বলতে পারছেন না। আমরা থানাতে অভিযোগ করেছি। পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা চাই পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার করুক।’’

৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একাধিক ধাবা, হোটেল রয়েছে। ধাবা, হোটেল চালিয়ে সংসার চালান তাঁরা। এ দিন এমন ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। এই বিষয়ে মালদহের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‘জেলাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছেন না। ছোট থেকে বড়, সব ধরনের ব্যবসায়ী আক্রান্ত হচ্ছেন। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্য ব্যবসায়ীদের উপরে আক্রামনের ঘটনা বাড়ছে। আমাদের দাবি, পুলিশকে দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement