চাঁচলের সেই শিশুর হাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে, দাবি

চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে চাঁচলের শিশু। ডানহাতে সংক্রমণ নিয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সদ্যোজাত শিশুটিকে। তারপর থেকে গত ১২ দিন ধরে এই হাসপাতালেরই এসএনসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন ওই শিশুটি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩২
Share:

চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে চাঁচলের শিশু। ডানহাতে সংক্রমণ নিয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সদ্যোজাত শিশুটিকে। তারপর থেকে গত ১২ দিন ধরে এই হাসপাতালেরই এসএনসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন ওই শিশুটি।

Advertisement

কর্তৃপক্ষের দাবি, চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গড়ে শিশুটির হাতে সংক্রমণের চিকিৎসা চলায় ভালো সাড়া মিলছে। এছাড়া শিশুটির ক্ষত ক্রমশ ভরাট হচ্ছে। তবে কত দিনে শিশুটির হাত স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা। যার জন্য এখনও অবসাদে রয়েছেন ওই শিশুর পরিবারের লোকেরা।

শিশুটির মা হাসিনা বিবি বলেন, ‘‘চিকিৎসকেরা বলছেন মেয়ে ভালো আছে। তার হাতে নতুন করে চামড়া গজাচ্ছে। তবে কবে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারব তা নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না। চাঁচল হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়েও চিকিৎসকেরা বলেছিলেন ভালো হয়ে যাবে। তারপরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই চিকিৎসকদের কথা শুনেও স্বস্তি পাচ্ছি না।’’ এই বিষয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার অমিত দাঁ জানান, শিশুটির অবস্থা এখন স্থিতিশীল। নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। তাতে বেশ সাড়া মিলেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওর প্রতি নিয়মিত নজর রাখছি। এখনই শিশুটির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যেরা।’’

Advertisement

মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচলের ওই শিশুটিকে নিয়মিত ড্রেসিং করা হচ্ছে। শুক্রবারও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটির ডেসিং করেছেন। একই সঙ্গে ওষুধ চলছে। তাতে তার হাতের ক্ষত সেরে উঠছে। মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছে, শিশুটির ক্ষত সাড়তে মাস খানেক সময় লাগবে। যেহেতু মাংস পিন্ডের ভিতরে ক্ষত রয়েছে তাই সারতে সময় লাগবে।

গত ১৬ জানুয়ারি রাতে চাঁচলের সতি এলাকার বাসিন্দা হাসিনা বিবি কন্যা শিশুটির জন্ম দেন। তিনদিন বাদে শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু শিরার বদলে মাংসপিন্ডে স্যালাইন দেওয়ায় শিশুটির হাতে সংক্রমণ তৈরি হয় বলে মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তারপর থেকেই শিশুটির ডান হাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

গত বুধবার রাতে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে চাঁচল হাসপাতালে ভাঙচুর ও বিএমওএইচকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শিশুটির পরিবারের লোকজন। ওইদিন রাতে শিশুটিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল মালদহ মেডিক্যালে। শিশুটির বাবা রাজিকুল ইসলাম এ দিন বলেন, ‘‘যাঁদের গাফিলতিতে আমার মেয়ের এমন পরিস্থিতি তাদের এখনও কেন শাস্তি হয়নি। আমরা তাঁদের শাস্তি চাই।’’

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলছে। মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দিলীপ কুমার মণ্ডল এ দিন বলেন, ‘‘প্রাথমিক রিপোর্ট রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। গাফিলতি থাকলে যথারীতি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement