মালদহের বৈষ্ণবনগরে একাদশ শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক ভাবে খুনের ঘটনায় তাঁরই দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে বৈষ্ণবনগরের বিননগর এলাকা থেকে প্রথমে আটক করা হয় দুই বন্ধুকে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের পুলিশ পেশ করে মালদহ জেলা আদালতে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হল রয়েল শেখ এবং নাসের শেখ। তাদের বাড়ি বৈষ্ণবনগরের বিননগরের নতুন বেগুনটোলা গ্রামে। দুইজনই শ্রমিকের কাজ করে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ছাত্র খুনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রমে ঘটিত কারনে খুন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুামন করা হচ্ছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকালে বৈষ্ণবনগর থানার ১৬ মাইল এলাকায় রেল লাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ওয়াসিম আক্রামের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে রাজনগর হাই স্কুলে পড়ত। তাঁর বাবা কবীর শেখ পেশায় দিনমজুর। তাঁদের বাড়ি কালিয়াচকের বিরনগর ২ গ্রামপঞ্চায়েতের নতুন বেগুন টোলা গ্রামে। তাঁর দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। বড়ো ছেলে তাঁরই সঙ্গে শ্রমিকের কাজ করেন। আর ছোট ছেলে ওয়াসিম একাদশ শ্রেণিতে এবং মেয়ে সুলতানগঞ্জ কলেজে পড়াশুনা করে। পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ বাড়ি থেকে ঘুরতে বের হয়। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকেরা খোঁজখবর করে সন্ধান পান নি। পরেরদিন সকালে গলা কাটা এবং শরীরে একাধিক স্থানে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
পরিবারের লোকেরা বৈষ্ণবনগর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তবে কি কারনে খুন তা নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিল পরিবারের লোকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াসিম খুবই শান্ত স্বাভাবের ছিল। আর তাকে খুনের ঘটনায় গ্রামে শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে রাতেই আটক করে ওয়াসিমের দুই বন্ধু রয়েল এবং নাসির শেখকে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পনা মাফিক খুন করা হয়েছে ওয়াসিমকে। ধৃতেরা জেরায় খুনের ঘটনা স্বীকার করে। এমনকি তারায় ফোন করে ওয়াসিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গল্পেরছলে রেল লাইনের ধারে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই হাঁসুয়া রাখা ছিল। নাসির দুই হাত ধরে ছিল এবং রয়েল তাকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপায়।
পুলিশের জেরায় ধৃতেরা জানিয়েছে, রয়েলের সঙ্গে গ্রামের এক কিশোরীর সর্ম্পক রয়েছে বছর তিনেক ধরে। সম্প্রতি ওয়াসিমও মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাবে মেয়েটি সারা দিয়েছিল। এতেই রয়েল ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিল ওয়াসিমের উপরে। এই বিষয় নিয়ে দুইজনের মধ্যে বচসাও হয়েছিল। ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন বলে অনুমান করছে পুলিশ। পুলিশ এদিন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই হতবাক হয়েছে মৃত ওয়াসিমের বাবা কবীর শেখ। তিনি বলেন, ‘‘ছেলের সঙ্গে কারও সর্ম্পক ছিল বলে আমরা জানতাম না। তবে রয়েল এবং নাসিরের সঙ্গে চলাফেরা করত। তবে এইভাবে তারা আমার ছেলেকে খুন করবে ভাবতে পারেনি। আমরা চাই পুলিশ তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিক।’’