মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর জয়ন্তীর ছ’টি ইকো কটেজের দায়িত্ব নিল পর্যটন দফতর। সোমবার বিকেলে রাজ্যের পর্যটন সচিব ও যুগ্ম অধিকর্তা জয়ন্তী এলাকায় গিয়ে ইকো কটেজগুলি পরিদর্শন করে। বন দফতরের দাবি কটেজগুলি এখনও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীন। এই নিয়ে দু’দফতরের কর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এদিন এলাকার পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে পর্যটন ব্যবসায়ী ও আলিপুরদুয়ারের বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেন আধিকারিকরা। পর্যটন দফতরের কর্তারা দাবি করেন, দুর্গা পুজোর আগেই ইকো-কটেজ গুলিতে বুকিং শুরু হয়ে যাবে।
২২ সেপ্টেম্বর কালিম্পং থেকে জয়ন্তীর বনদফতরের বাংলো ও রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন ছ’টি ইকো কটেজ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বনদফতরের বাংলোটি এখনও পর্যটকদের জন্য চালু হয়নি। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উপক্ষেত্র অধিকর্তা হরিকৃষ্ণণ বলেন, “বন দফতরের বাংলোটির ভাড়া ঠিক না হওয়ায় তাতে এখন বুকিং শুরু হয়নি।” তবে বন দফতরের ওই আধিকারিক জানান, ইকো কটেজ গুলি সম্পূর্ণ ভাবে পর্যটন দফতরকে এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। তাতে সময় লাগবে।
পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব অধীর রঞ্জন বর্ধন বলেন, “জয়ন্তীতে সদ্য নির্মিত ইকো কটেজ গুলি পর্যটন দফতরের অধীন। পুজোর আগেই তা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এলাকায় নতুন ঘাস লাগানো হবে বলে তিনি জানান। কটেজ গুলির ভেতর আসবাব বদলের চিন্তা ভাবনাও রয়েছে। কটেজ হস্তান্তর হলেও পর্যটকদের জন্য কোনও রান্নাঘর নেই। তার জন্য বনদফতরের সঙ্গে কথা চলছে।” যুগ্ম অধিকর্তা সুনীল অগ্রবালও এলাকা ঘুরে দেখেন।
আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায় এদিন পর্যটন দফরের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে জানান, আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শালকুমার হাট এলাকায় ২০১২ সালে বেশ কিছুটা পরিমাণ সরকারি জমি পর্যটনের হাব তৈরীর জন্য নেওয়া হয়েছিল। সেজন্য প্রাথমিক ভাবে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল পর্যটন দফতর। তবে সেই কাজ এখনও শুরু হয়নি। পর্যটন আধিকারিকরা জানিয়েছেন এলাকায় প্রাথমিক পরিকাঠামো গড়ে পিপিপি মডেলে পর্যটন হাব গড়া হবে। বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায় বলেন, ‘‘২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারকে পৃথক জেলা ঘোষণার সময় বলেছিলেন আলিপুরদুয়ার পর্যটনের জেলা। সেই জন্য প্রয়োজন মাস্টার প্ল্যান তৈরী করা। এর উদ্যোগ নিতে হবে পযর্টন দফতরকে।”
আলিপুরদুয়ারের পর্যটন ব্যবসায়ী পার্থসারথি রায়, রানা বসুরা ভুটানঘাট, নারার থলি সহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের দেখার জন্য বনদফতরের অনুমতির ব্যবস্থা করার জন্য পর্যটন আধিকারিকদের কাছে দাবি জানান। বক্সার সন্তলা বাড়ি থেকে আদমা পাহাড় পর্যন্ত পর্যটকদের ট্রেকিংয়ের অনুমতি মিলছেনা। তাছাড়া জয়ন্তী ঢুকতে গেলে রাজাভাত খাওয়া চেকপোস্টে বনদফতরে যে প্রবেশ মূল্য নেয় সেই টাকা কমানোর দাবি জানিয়েছেন।