ঝাঁপের কথা যেন আর না শুনতে হয়

মাত্র মাস কয়েক আগের কথা। দিল্লি থেকে আসা একটি ট্রেনের সাধারণ কামরায় সহযাত্রীদের উৎপাতে বাধ্য হয়ে এত তরুণী ছেলে কোলে করে স্বামীর হাত ধরে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে নেমে পড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩৫
Share:

মাত্র মাস কয়েক আগের কথা। দিল্লি থেকে আসা একটি ট্রেনের সাধারণ কামরায় সহযাত্রীদের উৎপাতে বাধ্য হয়ে এত তরুণী ছেলে কোলে করে স্বামীর হাত ধরে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে নেমে পড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের মানুষের বক্তব্য, শ্লীলতাহানির শিকার ওই মহিলার মতো আর কেউ এই ভাবে ট্রেন থেকে নেমেছে, এমন খবর যেন আর শুনতে না হয়।

Advertisement

ট্রেন নিয়ে আরও ক্ষোভ রয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন দিয়ে রোজ ৪০ জোড়া ট্রেন যায়। তাতে এই স্টেশনের সঙ্গে বাঁধা পড়েছে মোটামুটি সারা ভারত। কিন্তু সে টুকু কেবল শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থার জন্য। বাকি উত্তরবঙ্গ রেল পরিষেবার নানা দিক থেকে বঞ্চিত। যেমন রায়গঞ্জ মহকুমা থেকে সরাসরি কলকাতা যেতে গেলে রয়েছে একমাত্র রাধিকাপুর এক্সপ্রেস, যা সন্ধ্যায় ছাড়ে। শিলিগুড়ির একরকম গা ঘেঁষে থাকা জলপাইগুড়ি থেকেই রাতে কলকাতা যাওয়ার সরাসরি ট্রেন নেই।

আবার কোনও শহরের দাবি উড়ালপুলের, আবার কোনও শহর চায় স্টেশনে বসুক চলমান সিঁড়ি। সিগন্যালিং ব্যবস্থা থেকে ডবল লাইন—রেল বাজেট এলেই এমন নানা প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে বাসিন্দা, বণিকসভা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। প্রতি জেলা থেকেই একাধিক স্মারকলিপি পৌঁছয় রেল মন্ত্রকে। তার কিছু পূরণ হয়, কিছু স্থান পায় পরের বারের প্রত্যাশার তালিকায়। এ বারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

Advertisement

শহরের রেল গুমটির উপর দিয়ে একটি উড়ালপুল এবং রাতের বেলায় কলকাতা যাওয়ার একটি সরাসরি ট্রেন, প্রতিবারই রেল বাজেটের আগে জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ী সমিতি থেকে রেলের নিত্য যাত্রী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশার তালিকার শীর্ষে থাকে এই দুই দাবি। দু’নম্বর রেলগুমটি থেকে মোহিতনগর পর্যন্ত উড়ালপুল হলে শহরের যানজট সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মত বাসিন্দাদের। বেশ কয়েকবার স্থানীয় রেল উপভোক্তা কমিটির আলোচনা-সিদ্ধান্তেও এই উড়ালপুলের কথা নথিভুক্ত হয়েছে। রাতে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন অথবা হলদিবাড়ি স্টেশন থেকে কলকাতাগামী একটি ট্রেনের দাবিও রয়েছে, এই জেলার বাসিন্দাদের।

উত্তর দিনাজপুরের রায়গ়়ঞ্জ মহকুমা থেকে সরাসরি কলকাতা যেতে গেলে রয়েছে একমাত্র রাধিকাপুর এক্সপ্রেস, যা সন্ধ্যায় ছাড়ে। দিনের বেলার জন্য পৃথক ট্রেনের দাবি অনেক দিন ধরে করছেন এই জেলার বাসিন্দাদের। এর সঙ্গেই এই বাজেটে রাধিকাপুর থেকে দক্ষিণ ভারতগামী একটি ট্রেনেরও প্রত্যাশা রয়েছে স্থানীয়দের। পণ্য আনা-নেওয়ার সুবিধার জন্য রায়গঞ্জে একটি ব্রেক পয়েন্ট তৈরি প্রয়োজন। জেলার ব্যবসায়ীদের এই দাবি দীর্ঘ দিনের বলে জানালেন রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরে এ সব দাবি কেন্দ্রীয় সরকার ও রেলমন্ত্রকের কর্তাদের জানিয়েছি।’’

Advertisement

পাশের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে রেলপথ চালু হয়েছে বছর বারো আগে। ২০০৪ সালেই বালুরঘাট-একলাখি ট্রেন চালু হলেও, রেল পথের নিরাপত্তা ও বালুরঘাট স্টেশনের পরিকাঠামো নিয়ে এখনও বিস্তর অভিযোগ রয়ে গিয়েছে বাসিন্দাদের। এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গেই জেলার চাহিদার তালিকায় রয়েছে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও প্রতিদিন বালুরঘাট-হাওড়ার ট্রেন।

মালদহের বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, গুয়াহাটিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসকে মালদহ স্টেশন হয়ে চালানোর। এর সঙ্গে দুপুর থেকে রাতের মধ্যে মালদহ স্টেশন থেকে কলকাতাগামী ট্রেনেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। কারণ, এখন ওই সময়ে কলকাতা যাওয়ার কোনও ট্রেন নেই। এই দাবিগুলিকে সমর্থন করেছেন জেলার বণিকসভার সদস্যরাও। জেলার মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও স্বয়ং ট্রেন বাড়ানোর দাবি করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement