ময়নাগুড়িতে ধৃত দুষ্কৃতীরা। নিজস্ব চিত্র।
রেশন ডিলারের বাড়িতে ডাকাতি করতে যাওয়ার পথে পাঁচ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার রাতে ময়নাগুড়ির সাপটিবাড়ি এলাকার সুস্তিরহাট গ্রাম থেকে পুলিশ ওই ডাকাত দলটিকে ধরে। একটি ছোট গাড়ি আটক করে বোমা তৈরির মসলা সহ হাঁসুয়া, ছুরি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুষ্কৃতী দলটি ডাকাতি ছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে গরু চুরির ঘটনায় জড়িত। ধৃতদের বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তিন জনকে পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। বাকিদের ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠান বিচারক।
ময়নাগুড়ির আইসি সুকুমার মিশ্র বলেন, “রেশন ডিলারের বাড়িতে ডাকাতির পাশাপাশি গরু ছিনিয়ে নেওয়ায় ছক ছিল দুষ্কৃতীদের। গ্রামবাসীদের সূত্রে খবর পেয়ে গভীর রাতে গাড়ি আটক করে দলটিকে ধরা হয়।” পুলিশ জানায়, ধৃত দুষ্কৃতীদের নাম তাজিবুল হোসেন, মনতাজুল রহমান, আসাদুল জামান, মহম্মদ কাদের এবং আইনুল হক। তাজিবুল কোচবিহারের বাসিন্দা। বাকিদের বাড়ি ময়নাগুড়ি এলাকায়। দলটির মধ্যে তাজিবুল, মহম্মদ কাদের এবং আইনুল হক গরু চুরি করে বাংলাদেশে পাচার ছাড়াও ডাকাতি ছক তৈরি করে। ওই কারণে ডাকাতি ও গরু পাচার কাণ্ডের আরও তথ্য জানতে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বুধবার রাত ১১টা নাগাদ ছোট গাড়ি নিয়ে দুষ্কৃতী দলটি সুস্তিরহাট গ্রামে যায়। ফাঁকা জায়গায় দু’জন নেমে যায়। গাড়ি থেকে সাইকেল নামিয়ে অন্ধকার রাস্তায় ঘুরে ঢুকে নজরদারির কাজ চালাতে শুরু করে। বাকি তিনজন গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরপাক খেতে থাকে। শীতের রাতে গ্রামের রাস্তায় একটি সাদা রঙের গড়ি ঘুরে বেড়াতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। ফোনে ময়নাগুড়ি থানাকে জানান তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যে বিরাট পুলিশ বাহিনী সাদা পোশাকে গ্রামে পৌঁছে রাস্তা আটকে দাঁড়ায়। সন্দেহজনকভাবে ঘরাফেরা করতে দেখে দুই সাইকেল আরোহী ডাকাতকে আটক করে গাড়িতে বসে থাকা তিনজনের খোঁজ পায়। পুলিশের জেরার মুখে কোচবিহারের বাসিন্দা তজিবুল জানায়, সুযোগ বুঝে ডাকাতি ছাড়াও জেলা জুড়ে গরু চুরি করে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের কাজ করে দলটি। বুধবার রাতে সুস্তিরহাট গ্রামের রেশন ডিলারের বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল। ওই রেশন ডিলারের কিছু গরু আছে। সেগুলিও নিয়ে যাওয়ার ছক ছিল তাঁদের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক মাসে ময়নাগুড়ির বিভিন্ন গ্রামের পাঁচটি বাড়ি থেকে ১২টি গরু চুরি হয়েছে। আইসি জানান, ময়নাগুড়ি ছাড়াও ধূপগুড়ি, বানারহাট, ক্রান্তি, রাজগঞ্জ এলাকায় ঘুরে ডাকাত দলটি গরু চুরি করে বেড়ায়। বাড়িতে ঢুকে কাজ হাসিল হলে ফোন গাড়ি ডেকে গরু তুলে রাতারাতি সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।