তৃণমূলের বিবাদেই কি গুলি, প্রশ্ন

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই আলিপুরদুয়ারের গুলি কাণ্ড কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জখম যুবক রাজা সাহা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৫ ০৩:২৪
Share:

আলিপুরদুয়ারে গুলি কাণ্ডে ধৃতেরা।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই আলিপুরদুয়ারের গুলি কাণ্ড কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জখম যুবক রাজা সাহা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত।

Advertisement

এদিকে গুলিকাণ্ডে অভিযুক্তরাও নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছে। বুধবার আলিপুরদুয়ার মনোজিৎ নাগ বাস টার্মিনাস এলাকায় গুলিতে গুরুতর জখম হন রাজা। ঘটনার পরের দিন ৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার আদালতে তোলার সময় ধৃতরা নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেন। এই ঘটনায় ফের অস্বস্তিতে দলীয় নেতৃত্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে মাদক সংক্রান্ত মামলায় জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হয়েছে। গুলি কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত কাজল দত্ত ও জগদীশ রায়কে (ছোটন) এদিন আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হয়। তবে কি কারণে গুলি চালানো হয়েছে তা নিয়ে পুলিশ মুখ খুলতে চাইনি। আলিপুরদুয়ারের জেলা পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, “গুলি চালানোর ঘটনায় পাঁচজনের মধ্যে ভোলা দাস, মনোজিৎ দাস ও শঙ্কর দাসের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় তাদের মাদক মামলায় জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হয়েছে। কাজল দত্ত ও জগদীশ রায়কে আলিপুরদুয়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে।” ধৃত কাজল ও জগদীশকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।”

Advertisement

ধৃতরা নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শহরের ১৮ নম্বর ওয়াডের্র সঞ্জয় কলোনির বাসিন্দা ধৃত কাজল জানিয়েছে, ২০১৪ সালে পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলররা যখন দলবদল করে সেই সময় সে তৃণমূলে যোগ দেয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতা গৌতম মজুমদারের নামও করে কাজল ও জগদীশ। আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের চাপরের পাড় ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা গৌতম মজুমদার বলেন, “কাজল থাকে পুরসভা এলাকায়। জগদীশ থাকে আমাদের এলাকা শোভাগঞ্জে। ওরা কেউ তৃণমূল কংগ্রেস করে না। জগদীশ গত পঞ্চায়েত ভোটেও কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছে। তবে স্থানীয় ছেলে হিসবে বিপদে আপদে পড়লে আমার কাছে আসে। ওদের সঙ্গে দলের কোন সর্ম্পক নেই।”

২০১৪ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় সহ চারজন কাউন্সিলর। দীপ্ত বাবু বলেন, ‘‘ওই নামে আমি কাউকে চিনি না।” জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী অবশ্য ধৃতদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “যে কেউ নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করলেই হল না। আমার কাছে খবর রয়েছে ওরা কংগ্রেস কর্মী।

Advertisement

মাস কয়েক আগে এই কাজল ও তার সঙ্গীরা অন্য মামলায় ধরা পড়েছিল। সেই সময় তাদের ছাড়াতে আলিপুরদুয়ার থানায় গিয়েছিল কংগ্রেস কর্মীরা। কংগ্রেস নেতা বিশ্বরঞ্জন সরকারের জানা নেই তার দলের কর্মীরা সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।”

বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিশ্বরঞ্জন সরকার বলেন, “গুলিতে জখম যুবক ও দুষ্কৃতী উভয়েই তৃণমূল সমর্থক। বিষয়টি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। আমার কাছে খবর রয়েছে, গুলি কাণ্ডে ধরা পড়ার পর তৃণমূল নেতাদের একাংশ থানায় ওদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল।”

এদিন কাজল ও জগদীশ দাবি করে, তারা রাজা সাহাকে গুলি করেনি। স্থানীয় এক দুষ্কৃতী পাপাই তালুকদার গুলি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রটি জগদীশের হাতে দিয়ে পালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজলের নামে একাধিক মারপিটের মামলা রয়েছে। সে আগেও জেল খেটেছে।

গুলিতে জখম রাজা এখন অনেকটাই সুস্থ বলে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement