দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতে এবারে রায়গঞ্জের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির তৃণমূলের বিদায়ী আহ্বায়কদেরই ওই কমিটিগুলির কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দিল দলের রায়গঞ্জ ব্লক কমিটি।
দলীয় সূত্রের খবর, গত রবিবার কমিটি গঠন নিয়ে রায়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল সভাপতি পূর্ণেন্দু দের অনুগামীরা তৃণমূল সাংসদ তথা দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানান। শুভেন্দুবাবুর নির্দেশে দলের জেলা সভাপতি অমল আচার্য ওই চারটি কমিটির দলীয় কাজকর্ম সহ পঞ্চায়েত স্তরে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। ওই ঘটনার জেরে পূর্ণেন্দুবাবুর অনুগামীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ছড়ায়।
এর পরেই জেলা নেতাদের পরামর্শে দলের ব্লক কমিটির তরফে ওই চারটি পঞ্চায়েতের বিদায়ী আহ্বায়কদের কমিটিগুলির কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
গত শনিবার ব্লক তৃণমূলের সরকারি সভাপতি নজরুল ইসলাম রায়গঞ্জ ব্লকের শীতগ্রাম, রামপুর, জগদীশপুর ও ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠন করেন। তিনি তাঁর অনুগামী বলে পরিচিত শীতগ্রাম পঞ্চায়েতের ইকতেখার আলি, রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবাশিস দে সরকার, জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আব্দুল হালিম ও ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের ইউসুফ আলিকে সভাপতির দায়িত্ব দেন। ওই চারটি পঞ্চায়েতে প্রায় আড়াই মাস আগে রায়গঞ্জ ব্লক সভাপতি পূর্ণেন্দুবাবু দীপক ঘোষ, মলয় সরকার, আলতাফ আলি ও তুষার রায়কে দলীয় আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ করে দলীয় কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন।
আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পূর্ণেন্দুবাবুর কাছে তাঁদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের সভাপতি না করে ওই দিন নজরুলবাবু তাঁর অনুগামীদের সভাপতি করে দেওয়ায় পূর্ণেন্দুবাবুর অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। গত রবিবার সার্কিট হাউসে গিয়ে শুভেন্দুবাবুর কাছে অভিযোগও জানান তাঁরা। এরই জেরে ওই চারটি পঞ্চায়েতের বিদায়ী আহ্বায়কদেরই কমিটিগুলির কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
অমলবাবু ও পূর্ণেন্দুবাবু অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের কথায়, ‘‘দল বাড়ছে। তাই কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। সব মিটে গিয়েছে। দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। সবটাই মিডিয়ার অপপ্রচার।’’
নজরুলবাবুর দাবি, দলের মধ্যে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী লোক ক্ষমতার লোভে পূর্ণেন্দুবাবু ও তাঁর মধ্যে বিরোধ লাগানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘ওইদিন পূর্ণেন্দুবাবু ও অমলবাবুর উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়। আমার সঙ্গে পূর্ণেন্দুবাবুর কোনও দ্বন্দ্ব থাকলে কমিটিগুলির বিদায়ী আহ্বায়কদের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হত না।’’