বাগডোগরা বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যাত্রীরা। কর্মীরা রান্নার ব্যবস্থাও করেন বিমানবন্দরেই। —নিজস্ব চিত্র।
মধ্য তিরিশের দম্পতি ইমরান শেখ এবং নাহিদ। মহারাষ্ট্রের পুণেতে হোটেল ব্যবসা রয়েছে তাঁদের। বর্যার মরশুমে ব্যবসার চাপ কম থাকায় প্রতিবারই এই সময় দেশের নানা প্রান্তে ঘুরতে বেরোন। এবার গন্তব্য সিকিম। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরায় নামেন ওই দম্পতি। ধর্মঘটের কথা জানলেও বিমানবন্দরের ভিতরে সকাল থেকে থিকথিকে ভিড় দেখে হকচকিয়ে যান দু’জনে। শেষ পর্যন্ত পাহাড়ে না উঠে এদিন শিলিগুড়িতে থেকে যাওয়াই ঠিক করেন।
এনবিএসটিসি-র বাসে শিলিগুড়ি যাওয়ার আগে বলেন, ‘‘আমাদের ওখানে আপৎকালীন সময়ে বিমানবন্দর বা আশেপাশে থাকার ব্যবস্থা থাকে। এখানে থাকলে সুবিধা হত। শুনলাম, বাস বা গাড়ি নিয়ে ১৪ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়িতে থাকতে হবে।’’
সেনা বাহিনীতে কর্মরত চেন্নাই-র বাসিন্দা সেনথিল কুমার। বনধের জন্য মঙ্গলবার রাত ১টায় চেন্নাই এর অদূরে বাড়ি থেকে বার হয়ে বিমানবন্দরে এসে বসেছিলেন। সকালের বিমান ধরে কলকাতা হয়ে বাগডোগরায় যখন পৌঁছালেন, তখন প্রায় বেলা ১২টা। সেনথিল বলেন, ‘‘বিমানবন্দরের ভিতরে রেস্তোরাঁয় বসা যায়। কিন্তু বাইরের চত্বরে কিছু থাকলে অনেকেই বিশ্রামের সুযোগ পেতেন। বাড়ি থেকে বেরিয়েছি প্রায় ১১ ঘন্টা আগে।’’
নয়ডার বাসিন্দা জীতেন শর্মা, বন্ধুবান্ধব ও পরিবার সমেত ১৬ জনকে নিয়ে সিকিম ঘুরতে এসেছিলেন। দলে ৫ জন শিশু। বনধের জন্য মাঝরাতে গ্যাংটক থেকে বার হয়ে ভোরে বাগডোগরা এসে পৌঁছান। দিনভর চেয়ারে বসে থেকে বিমানবন্দরের ভিতরের রেঁস্তোরায় কোনও মতে খেয়ে দুপুরের দিল্লির বিমান ধরে দলটি।
শুধু এমন আপৎকালীন পরিস্থিতিই নয়, বিমানবন্দরের মধ্যে যাত্রীদের বিশ্রাম নেওয়ার বা থাকার কোনও ব্যবস্থা থাকলে তাতে সুবিধা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) অফিসাররা। তাই গত কয়েকমাস আগে ‘ট্রানজিট সেন্টার’ করার একটি প্রস্তাবও কলকাতা, দিল্লিতে পাঠিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সেখান থেকে অনুমোদনও এসেছে।
বিমানবন্দর সূত্রের খবর, আপাতত ঠিক হয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে এএআই-র দফতরের ঠিক উল্টোদিকের জমিতে ওই সেন্টারটি তৈরি হবে। প্রস্তাবিত ‘ট্রানজিট সেন্টার’এর নিচের তলায় রেঁস্তোরা এবং রিসেপশন থাকবে। দোতলায় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, সাধারণ ঘর এবং ডরমেটরি, ক্লকরুম থাকবে। তিনতলায় কনফারেন্স হল এবং অফিসের জায়গা থাকবে। লিজের মাধ্যমে সেন্টারটি চালানো হবে বলে ঠিক হয়েছে। তবে ঘরভাড়া ৫০০-২০০০ টাকার মধ্যেই থাকবে বলে বিমানবন্দরের অফিসারেরা জানিয়েছেন।
বাগডোগরা বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায় বলেন,‘‘বনধের দিন প্রতিবার আমরা ভোর থেকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল খোলা রাখি। রেঁস্তোরা, প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথ, শৌচালয় এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, এ সব দিনে অনেকেই ভোর হওয়ার আগেই চলে আসেন। সেই জায়গা থেকেই সেন্টারটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়।’’ তিনি জানান, চাহিদা বুঝে পরে ট্রানজিট সেন্টারটি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত ৫ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ অনুমোদনও দিয়েছেন।
ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘এমন সেন্টার হলে আমরাও বনধ বা আপৎকালীন সময়ে পযর্টকদের আগে এনে বিমানবন্দরে রাখতে পারব। টার্মিনালের বাইরে রেঁস্তোরা হলে যাত্রীরা কেন, বিমানবন্দরে আসা সকলেই সহজেই খাবার খেতে পারবেন। অফিস এবং কনফারেন্স হলের সুযোগ থাকলে কর্পোরেট সংস্থাগুলির সুবিধা হবে।’’