নিম্নমানের বীজ বিলি, আলু ফেলে অবরোধ ধূপগুড়িতে

দাম না মেলায় গত মরশুমে আলু চাষ করে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়ে ছিলেন কৃষকরা। এবার আলু চাষের মরসুম শুরু হতেই নিম্ন মানের বীজ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে রাস্তায় আলুর বীজ ফেলে টানা দু’ঘণ্টা ধূপগুড়ি-ফালাকাটা জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন কয়েকশো কৃষক। শনিবার দুপুরে কৃষি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে নির্দিষ্ট দোকান সিল করে দেবার পর কৃষকরা শান্ত হন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২১
Share:

দাম না মেলায় গত মরশুমে আলু চাষ করে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়ে ছিলেন কৃষকরা। এবার আলু চাষের মরসুম শুরু হতেই নিম্ন মানের বীজ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে রাস্তায় আলুর বীজ ফেলে টানা দু’ঘণ্টা ধূপগুড়ি-ফালাকাটা জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন কয়েকশো কৃষক। শনিবার দুপুরে কৃষি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে নির্দিষ্ট দোকান সিল করে দেবার পর কৃষকরা শান্ত হন।

Advertisement

ধূপগুড়ির কৃষি আধিকারিক দেবাশিস সর্দার বলেছেন, ‘‘নির্দিষ্ট একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাঁর দোকান সিল করার পাশাপাশি যে আলু বীজ তিনি বিক্রি করেছেন তা আসলে পরীক্ষিত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিক্ষোভকারী চাষিরা মূলত ব্লকের দক্ষিণ আলতা গ্রামের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে আলু রোপণ করতে শুরু করেন তারা। ওই গ্রামের কয়েকজন কৃষক ধূপগুড়ি শহরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বীজ কিনে নিয়ে গিয়ে জমিতে রোপণ করেন। শনিবার তাদের কয়েকজন দেখতে পান যে সমস্ত বীজ ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কেনা হয়েছে সে গুলি জমিতে পচে গিয়েছে। ওই ঘটনা নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। মূহুর্তে কয়েকশ চাষি জড়ো হয়ে ধূপগুড়ি শহরে চলে এসে দোকানে সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সুযোগ বুঝে ওই ব্যবসায়ী দোকান ছেড়ে পালিয়ে যান। বেলা ১ টা নাগাদ কৃষকরা ওই ব্যবসায়ীর শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেন। কয়েকজন কৃষক ওই দোকান থেকে কয়েক বস্তা আলুর বীজ বের করে রাস্তায় ফেলে দেন। কৃষকদের অবরোধে শিলিগুড়ি-কোচবিহার গামী গাড়িগুলি রাস্তার ধারে আটকে পড়ে। নাজেহাল হতে হয় বাসযাত্রীদের। পরবর্তীতে পুলিশ এবং কৃষি দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করেন। এলার কৃষক সাগর রায়ের কথায়, ‘‘তিন বস্তা আলু বীজ কিনেছিলাম ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। উন্নত মানের সার্টিফাই বীজের নাম করে চড়া দামে সেগুলি কিনি। তবে তিন দিন বাদে দেখি যে বীজ রোপণ করা হয়েছে তা পচে গিয়েছে। এতে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে ফের পড়তে হল আমাদের। ’’

Advertisement

রবিবার কৃষি আধিকারিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হবে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি,তাঁরা পাঞ্জাবের সার্টিফাই বীজ বিক্রি করেন। ওই ক্ষেত্রে কি হয়েছিল তা দেখা হোক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement