কোথাও তৈরি হচ্ছে বিরাট উঁচু মন্দির, কোথাও বটবৃক্ষের আদল, আবার কোথাও নরকযন্ত্রণার থিমে মণ্ডপসজ্জা। জেন ওয়াইকে টেনে আনতে ওয়াইফাই জোন করে ফেলছেন মণ্ডপ চত্বর। সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বিরাট বিরাট আলোকতোড়ণ। মালবাজার এবং ওদলাবাড়ি দু’জায়গাই কালীপুজোয় উত্তরবঙ্গব্যাপী সারা ফেলবে বলে প্রস্তুত ছিল। ওদলাবাড়ির সুভাষ অ্যাথলেটিক ক্লাবের পরিচালনায় সুভাষপল্লি সর্বজনীন শ্যামাপুজোর আলোর তোড়ণ চন্দননগর থেকে এসেছে। নীল রঙের ডলফিনের আদলে তৈরি আলোকসজ্জার নতুনত্বই এ বারে এই ক্লাবের অন্যতম সেরা বাজি। ওদলাবাড়ির আমরা সবাই, ইলেভেন বুলেটস ক্লাবের পুজোতেও আছে চমক।
মালবাজার পুর এলাকার মালবাজার কলোনি যুবকবৃন্দ এবং উই আর অল কাম টুগেদার এই দুই ক্লাবেরই এ বার পুজোর দ্বিতীয় বর্ষ। কিন্তু দ্বিতীয় বছরেই নজরকাড়া আয়োজন তাদের। মালবাজার কলোনি যুবকবৃন্দ কলোনি ময়দানে তৈরি করেছে বাঁশি, কাঁসা, পেতল দিয়ে মন্দির। গোটা মন্ডপ চত্বরই তারা ওয়াইফাই জোন করছে। পুজো কমিটির সম্পাদক রাজীব সরকারের কথায়, ‘‘নতুন প্রজন্মই আমাদের পুজোর সম্পদ। তাই ওদের বাড়তি সুবিধা দিতেই এই ভাবনা।’’ সঙ্গে নিরাপত্তার জন্যে মণ্ডপ চত্বরে সিসিটিভিও থাকছে। সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতিদিনই চলবে বলে জানান রাজীব।
উই আর অলের মন্ডপ গড়ে উঠছে মালবাজারের মহকুমাশাসকের কার্য্যালয়ের কাছে পূর্ত দফতরের মাঠে। সেখানে বাঁশ দিয়ে মেদিনীপুরের শিল্পীরা নানা কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছেন। থাইল্যান্ডের বুদ্ধমন্দির টিন দিয়ে তৈরি করেছে মালবাজারের জাতীয় তরুণ সঙ্ঘ। ফ্রেন্ডস কনকারেন্স ক্লাবের দু’তলা সমান উঁচু মন্দির শহরের অন্যতম বড় পুজোগুলির একটি বলে দাবি কর্মকর্তাদের। সেখানে শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। মালবাজারের বাজার রোডের বাঘাযতীন ক্লাবের মন্দিরের আদলে মণ্ডপের সামনে রয়েছে বিরাট শিবমূর্তি। কালীমূর্তি এখানে রক্ষাকালীর আদলে তৈরি।
মালবাজারের ডাকবাংলোর সঙ্ঘমিত্র ক্লাবে নরকযন্ত্রণা থিমের আদলে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। পাপ থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে ধূপগুড়ির শিল্পী নরক দর্শন করাবেন এখানে। থিম পুজোয় বিখ্যাত মালবাজারের আর এক ক্লাব বিবেকানন্দ সঙ্ঘ বটবৃক্ষের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মালবাজারের অন্যতম বড় ক্লাব সৎকার সমিতির বিরাট মণ্ডপ, তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিরাট আলোকতোড়ণ সকলের নজর কাড়বে। ক্লাব সম্পাদক সুপ্রতীম সরকার জানান, মণ্ডপের ভেতরে প্রতিমা দর্শন করতে গিয়েও অনেক চমক অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীদের জন্যে। মালবাজারের স্পোর্টিং ইউনিয়ন ক্লাব ও ব্যায়মাগারের মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে পোড়া মাটির টেরাকোটার কাজ দিয়ে। বিরাট আলোক তোড়ণ সুভাষ মোড় থেকেই দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাবে।
মালবাজারের ঘড়িমোড় এলাকার আরও একটি বড় এবং ঐতিহ্যশালী কালীপুজো গোল্ডেন অ্যারো এ বছরও আলোর গেট তৈরি করার পাশাপাশি মানানসই প্যান্ডেল তৈরি করেছে। ভিড় সামলাতে আগাম সতর্ক হয়েছে মালবাজারের পুলিশ প্রশাসনও। এসডিপিও নিমা নরবু ভুটিয়া জানান, বিভিন্ন রাস্তায় বাড়তি ট্রাফিক ব্যবস্থা যেমন মোতায়েন থাকবে, তেমনই বড় বড় পুজো মণ্ডপে ঢোকার মুখে পুলিশের নজরদারি থাকবে।