পূর্ব-পশ্চিম সড়কের কাজ শুরু সেপ্টেম্বরে

জট কাটিয়ে অবশেষে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে পূর্ব-পশ্চিম মহা সড়কের কাজ। সব ঠিকঠাক চললে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শিলিগুড়ি লাগোয়া ঘোষপুকুর থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে ধূপগুড়ি পর্যন্ত প্রথম ধাপে চার লেনের মহাসড়ক তৈরির কাজ শুরু হবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের শিলিগুড়ি বিভাগের প্রকল্প আধিকারিক রাজকুমার চৌধুরী বলেন, ‘‘চলতি মাসের মধ্যে সব নথিপত্র তৈরি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ইতিমধ্যেই কাজ শুরুর বরাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৫ ০১:৫৬
Share:

জট কাটিয়ে অবশেষে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে পূর্ব-পশ্চিম মহা সড়কের কাজ। সব ঠিকঠাক চললে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শিলিগুড়ি লাগোয়া ঘোষপুকুর থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে ধূপগুড়ি পর্যন্ত প্রথম ধাপে চার লেনের মহাসড়ক তৈরির কাজ শুরু হবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের শিলিগুড়ি বিভাগের প্রকল্প আধিকারিক রাজকুমার চৌধুরী বলেন, ‘‘চলতি মাসের মধ্যে সব নথিপত্র তৈরি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ইতিমধ্যেই কাজ শুরুর বরাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement

দেশের পূর্ব এবং পশ্চিম প্রান্তকে যুক্ত করে এই মহাসড়ক তৈরির পরিকল্পনা ছিল আগের এনডিএ সরকারের। গুজরাতের পোরবন্দর থেকে অসমের শিলচরকে পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার চার লেনের মহাসড়ক তৈরির কাজ দেশের অন্য প্রান্তে শেষ বা শেষের মুখে থাকলেও জলপাইগুড়ি জেলাতে প্রথম থেকেই এই প্রকল্পের পিছু নিয়েছে বির্তক। জলপাইগুড়ি শহর ছুঁয়ে নাকি ডুয়ার্স দিয়ে এই মহাসড়ক হবে তা নিয়ে একপ্রস্ত বিতর্ক ছিল। আন্দোলন-পাল্টা আন্দোলনের পরে পরিবেশ বাঁচাতে জলপাইগুড়ি শহর ছুঁয়েই মহাসড়ক তৈরি হবে বলে স্থির হয়। কাজ শুরু হতেই শুরু হয় জমি সমস্যা। বাম আমলে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা কাটাতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটিও তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল সরকার আসার পরে প্রথমে জমি অধিগ্রহণের কাজ বন্ধ হয়ে ছিল। পরবর্তীতে ফের সেই কাজ শুরু হয়। তবে ধূপগুড়ি এবং ফালাকাটায় এখনও ১৭ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা আর নেই। ধূপগুড়ি-ফালাকাটা এলাকাতেও সমস্যা সমাধানের পথে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যে দিল্লি থেকে একটি দেশীয় বহুজাতিক নির্মাণ সংস্থাকে কাজ শুরুর বরাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার তরফে রাস্তায় মাপজোকের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘোষপুকুর থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত পর্যন্ত প্রায় ৮৪ কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে বরাদ্দ হয়েছে এগারোশো কোটি টাকা। চলতি মাসেই জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া একটি এলাকায় নির্মাণ সংস্থা তাদের ক্যাম্প অফিস চালু করে দেবে বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ঘোষপুকুর থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হবে। জমি-সমস্যা মিটে গেলে ধূপগুড়ি থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত মহাসড়কের বাকি ৭১ কিলোমিটারের কাজ শুরু হবে। যার জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

Advertisement

সড়ক কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে বিহার হয়ে ঘোষপুকুর পর্যন্ত সড়ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। অন্যপ্রান্ত সলসলাবাড়ি থেকে অসম পর্যন্তও মহাসড়ক তৈরির কাজ শেষ। মাঝখানে বাকি থাকা প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার অংশেও এ বার কাজ শুরু হতে চলেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মাপজোক শেষ করা, নির্মাণ সংস্থার ক্যাম্প অফিস তৈরি করা প্রভৃতির পরে কাজ শুরু হওয়ার জন্য মাস তিনেক সময় ধরে রাখা হয়। সে কারণেই আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement