প্রদীপের বাজার নেই, পেশা বদল অনেকের

উপকরণের দাম বাড়ায় প্রদীপ তৈরির খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় দাম মিলছে না। তাই বাধ্য হয়ে পেশাই বদলে নিচ্ছেন শিল্পীরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:৫৫
Share:

প্রদীপ তৈরি ছেড়ে শুকনো খাবার তৈরি করছেন অনেকেই। গৌর আচার্যের তোলা ছবি।

উপকরণের দাম বাড়ায় প্রদীপ তৈরির খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় দাম মিলছে না। তাই বাধ্য হয়ে পেশাই বদলে নিচ্ছেন শিল্পীরা।

Advertisement

কারণ কালীপুজোর মুখে বাজার ছেয়ে গিয়েছে হরেক রঙের বৈদ্যুতিক আলো, প্রদীপ ও মোমবাতিতে। এই পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কায় প্রদীপ তৈরির কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জ পালপাড়া এলাকার বেশিরভাগ মৃৎশিল্পী। তাঁদের কেউ ভ্যান রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ বা আবার বাড়িতেই মুখরোচক খাবার প্যাকেজিংয়ের কাজ শুরু করেছেন। অনেকে আবার ফুলের মালা তৈরি, শালপাতা সেলাই, বা সব্জি ও কাপড় ফেরির কাজ শুরু করেছেন। বাজার যাচাই না করে হাতেগোনা যে সমস্ত মৃৎশিল্পী এবছর প্রদীপ তৈরির কাজ করেছেন, তাঁরাও লোকসানে প্রদীপ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

প্রবীণ মৃৎশিল্পী বিমল পাল ও সুজিত পাল জানান, গতবছর পর্যন্ত তাঁরা মহালয়া থেকে কালীপুজো পর্যন্ত দিনে গড়ে প্রায় দেড় হাজার করে প্রদীপ তৈরি করেছেন। কিন্তু এবছর ওই কাজ না করে ভ্যান চালানো বা কাপড় বিক্রি করছেন। তাঁদের কথায়, ‘‘এবছর উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রদীপ তৈরির খরচ অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা গত বছরের দামেই প্রদীপ কিনতে চাইছেন। আমরা তো আর লোকসানে প্রদীপ বিক্রি করতে পারি না। তাই অন্য পেশায় চলে এলাম।’’

Advertisement

রায়গঞ্জের নেতাজিপল্লি ও নিউমার্কেট এলাকার দুই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ কোদালিয়া ও রাম সাহার দাবি, ‘‘এবছর খুচরো বাজারে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে আধুনিক বৈদ্যুতিক আলো, প্রদীপ ও মোমবাতি বিক্রি হচ্ছে। বৈদ্যুতিক আলো জ্বালাতে কোনও ঝামেলা নেই। কিন্তু প্রদীপ জ্বালানোর জন্য তেল ও পোলতের দরকার। তাই ক্রেতারা প্রদীপের বদলে বৈদ্যুতিক আলো কিনতেই বেশি আগ্রহী। ফলে লোকসানের আশঙ্কাতেই মৃৎশিল্পীদের কাছ থেকে গত বছরের থেকে বেশি দামে প্রদীপ কিনছি না।’’

সুভাষগঞ্জ পালপাড়া এলাকায় বংশ পরম্পরায় প্রায় ৩০০ জন পুরষ ও মহিলা মৃৎশিল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গরমের মরশুমে তাঁরা মাটির কলসি, কুঁজো, হাড়ি, টব, ফুলদানি সহ নানা উপহার সামগ্রী তৈরির কাজ করলেও প্রতিবছর বাড়তি রোজগারের আশায় মহালয়ার পর থেকে কালীপুজো পর্যন্ত প্রদীপ তৈরি করাই রেওয়াজ তাঁদের।

Advertisement

প্রবীণ মৃৎশিল্পী রতন পাল ও কানু পালের দাবি, ‘‘এবছর প্রদীপ তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে গত বছরের দামেই প্রদীপ কেনার সিদ্ধান্তে অনড়। তাই এলাকার ২৫০ জন মৃৎশিল্পী লোকসানের আশঙ্কায় দুর্গাপুজোর মুখে প্রদীপ তৈরির কাজ ছেড়ে মুখরোচক খাবার প্যাকেজিং, ফুলের মালা তৈরি, শালপাতা সেলাই সহ ফেরি করে সব্জি ও কাপড় বিক্রির কাজও শুরু করেছেন।’’

মৃৎশিল্পী বেলারানি পাল ও শেফালি পালের দাবি, গত বছর এক হাজার প্রদীপ তৈরি করতে মাটি, রঙ ও জ্বালানির দাম বাবদ খরচ হয়েছে তিনশো টাকা। ব্যবসায়ীরা সাড়ে তিনশো থেকে চারশো টাকায় এক হাজার প্রদীপ কিনেছেন। এবছর মাটি, রঙ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এক হাজার প্রদীপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে চারশো টাকা। কিন্তু বাড়তি দাম দিতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement