দাখিল দরওয়াজা।
সুষ্ঠু পরিকাঠামো না থাকায় মালদহ জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় পর্যটকদের। তাই পর্যটন কেন্দ্র গুলিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ঢেলে সাজাছে জেলা প্রশাসন ও পর্যটন বিভাগ। জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলির সৌন্দর্যায়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ইতিমধ্যে অধিকাংশ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াও সর্ম্পন্ন হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র গুলির সৌন্দর্যায়নে জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ। এই বিষয়ে মালদহের জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী বলেন, ‘‘জেলাতে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সেই কেন্দ্র গুলি সৌন্দর্যায়নের জন্য পরিকল্পনা করে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে অর্থ বরাদ্দ্ করা হয়েছে।জেলা পরিষদ ও পূর্ত দফতরের মাধ্যমে কাজ করা হবে। খুব শ্রীঘই পর্যটন কেন্দ্র গুলির কাজ শুরু হয়ে যাবে।’’
ইংরেজবাজারের মহদিপুরে অবস্থিত গৌড়। আর গাজলের পান্ডুয়ায় রয়েছে আদিনা মসজিদ। এই দুই ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে জেলার পর্যটন কেন্দ্র। তবে ১৯৯৮ সালে আরও একটি ঐতিহাসিক স্থানের সন্ধান মেলে। হবিবপুরের জগজ্জীবনপুরে মাটি খনন করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ গাইন পেয়েছিলেন তাম্র পত্র। পরে মাটি খনন করতে গিয়ে প্রাচীন বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। জানা যায় পাল যুগে মহেন্দ্র পাল নামে এক রাজা বৌদ্ধদের ধর্মচর্চা করার জন্য এই বাড়িটি দান করেছিলেন। যা বৌদ্ধবিহার নামে পরিচিত। খনন করে বৌদ্ধ বিহারটি উদ্ধার হওয়ায় পর এখানেও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। জেলার এই তিনটি ঐতিহাসিক স্থান দেখতে ভিড় জমায় বহু পর্যটক। বিশেষ করে শীতের মরশুমে। বছর তিনেক আগে গৌড়ে একটি বাংলা সিনেমার শুট হয়েছিল। যার পর থেকে জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা ভিড় জমান। তবে পরিকাঠামো গত সমস্যার জন্য হতাশ হয়ে ফিরতে হয় তাঁদের। হবিবপুরের বৌদ্ধবিহারটি যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। যার জন্য পর্যটকেরা যেতে আগ্রহী হারান। সেই সঙ্গে আদিনা ও গৌড়েও সন্ধের পর আলোর তেমন ব্যবস্থা নেই। গড়ে ওঠেনি শৌচাগার থেকে শুরু করে সাময়িক ভাবে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য নেই কোন বিশ্রামাগার। ফলে পর্যটকদের গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
তবে জেলা প্রশাসন এই কেন্দ্র গুলি ঢেলে সাজাতো নয়া উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হবিবপুরের বৌদ্ধ বিহারটিকে ঘিরে গড়ে উঠবে সংগ্রহশালা। বৌদ্ধ বিহারের মাটি খননের সময় উদ্ধার হওয়া বস্তু গুলি রাখা হবে। এছাড়া পর্যটকদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শৌচাগার এবং বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে। সৌন্দর্যায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হবে। এই গাছ গুলি রাস্তার দুই ধারে থাকবে। এর জন্য বরাদ্দ্য করা হয়েছে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া বেহাল রাস্তা সংস্কার করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাস্তার জন্য ১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ্য করা হয়েছে। রাস্তা চওড়া ও নতুন করে তৈরি করা হবে। বৌদ্ধ বিহারের পাশাপাশি গৌড় এবং আদিনার সৌন্দর্যায়নের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। এখানেও রাস্তার দুই ধারে পাতা বাহারি গাছ লাগানো হবে। রাস্তার ধারে আলো ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে সাউন্ড বক্সও ব্যবহার করা হবে।
যাতে পর্যটকেরা আকৃষ্ট হন তাঁর জন্য প্রাচীন আমলের বিভিন্ন মুর্তি তৈরি করা হবে। গৌড়ের সৌন্দর্যায়নের জন্য ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ ৭১ হাজার এবং আদিনার জন্য ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা বরাদ্দ্য করা হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থান গুলির সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হবে। এবং রাস্তার কাজ করবে পূর্তবিভাগ। জেলার পরিষদের অতিরিক্ত নির্বাহী বাস্তুকার অমল কান্তি রায় বলেন, টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া সর্ম্পন্ন হয়েছে। খুব শ্রীঘ্রই কাজ শুরু হবে। কাজ সর্ম্পন্ন হলে জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলি ভিন্ন রুপ পাবে। এই বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী তথা উদ্যান পালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি সংশ্লিষ্ট দফতেরর মন্ত্রী থাকা কালীন এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। পর্যটন কেন্দ্র গুলির কাজ শেষ হলে পর্যটকেরা আরও আকৃষ্ট হবেন।’’
মালদহের এই ইতিহাসপ্রসিদ্ধ জায়গাগুলিতে পর্যটনের প্রসারের উদ্যোগ হয়েছে। —নিজস্ব চিত্র।