জলপাইগুড়ির দিনবাজারে আগুন নেভাচ্ছে দমকল। সন্দীপ পালের তোলা ছবি।
দিনবাজারে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে প্রশাসনের তরফে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চাওয়া হল। আজ, শনিবার বিশেষজ্ঞ দলটি শহরে পৌঁছতে পারে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দিনবাজারে আগুন লেগে যায়। তা ছড়িয়ে প়ড়ে শতাধিক দোকানে। অনেকে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। দমকল, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের প্রাথমিক সন্দেহ, আতসবাজির গুদাম থেকেই বাজারে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘিঞ্জি বাজারে কী করে এত বিরাট পরিমাণ আতসবাজি মজুত করা হল, তা নিয়ে শহরের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, লাইসেন্স ছাড়া বাজির কারবার চলছে দেখেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। পরিণতিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দেড়শো ব্যবসায়ীকে নিঃস্ব হতে হল। দমকলের বিভাগীয় অফিসার সনৎকুমার মণ্ডল বলেন, “প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে বাজির দোকান থেকে আগুন ছড়িয়েছে।”
শুধু বাসিন্দাদের একাংশ নন, পুরসভার ভাবি চেয়ারম্যান মোহন বসুও বাজারে বেআইনি বাজি কারবারের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কথায়, “আগুনের ভয়াবহতা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বাজারে লুকিয়ে বেআইনি ভাবে আতসবাজির কারবার চলছিল।” জলপাইগুড়ির জেলাশাসক পৃথা সরকারও বলেন, ‘‘কেমন করে বিপুল পরিমাণ আতসবাজি বাজারে মজুত করা হল, তা-ও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথন জানান, দমকল ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনবাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দলীয় স্তরে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “বাজারে বেআইনি বাজির কারবারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।” অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য শুক্রবার শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে দশ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বাজারের নতুন পরিকাঠামো গঠনের জন্য প্রশাসনের তরফে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়। এদিন সার্কিট হাউসে পুরসভা, জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার পরে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব ত্রাণ সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। যদিও তিনি বেআইনি বাজির কারবার নিয়ে নীরব ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজারে পাকা বাড়ি এবং টিনের শেডের অন্তত সাতটি বাজির গুদাম ছিল। একটি গুদামে এক কোটি টাকার উপরে বাজি মজুত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী জানান, অন্তত দশ বছর থেকে ওই ব্যবসা প্রকাশ্যে চলছে। তাঁর দাবি, লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাজির ব্যবসা করছেন। এখান থেকে রাজগঞ্জ, হলদিবাড়ি এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন বাজারে বাজি যাচ্ছে।
দিনবাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সাধন বসু বলেন, “ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে ব্যবসা করেছেন। এখানে বেআইনি কারবারের অভিযোগ উঠছে কেমন করে, বুঝতে পারছি না। পুরসভা অথবা প্রশাসনের তরফে আমাদের ওই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।”